প্রকাশ: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ৫:১৫ পিএম (ভিজিট : ৫৯)

নিরাপত্তাজনিত কারণে বার বার বন্ধ করে দেওয়া প্যারাসেইলিং চড়তে গিয়ে এবার আকাশ থেকে সমুদ্রে ছিটকে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন খুলনার শৌভিক রায় নামে এক পর্যটক। আজ শনিবার (১ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দরিয়ানগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা বলছেন, ফরিদ সিন্ডিকেট এর মালিকানাধীন অবৈধ প্যারাসেইলিংয়ে পর্যটকরা চড়তে করতে গিয়ে বহুবার দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। এর পর কয়েকবার বন্ধ করে দেওয়া হলেও বিচকর্মীসহ প্রশাসন এর কতিপয় ব্যক্তির যোগসাজসে আবার খুলে দেওয়ায় এই দুর্ঘটার শিকার হয়েছে। তাদের ভষ্যমতে এর দায় প্রশাসন এড়াতে পারেনা। নিহত শৌভিক খুলনা জেলার বাসিন্দা। তিনি ৯ সদস্যের একটি পর্যটক দলের সঙ্গে কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, প্যারাসেইলিং চলাকালে হঠাৎ নিরাপত্তা হারনেস থেকে শৌভিক ছিটকে সমুদ্রে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে সি স্পোর্টস প্যারাসাইলিং কর্তৃপক্ষ তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর নিহতের স্বজন ও সফরসঙ্গীদের আহাজারিতে হাসপাতাল এলাকা ভারী হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভও দেখা গেছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন, পর্যটন কর্তৃপক্ষ কিংবা সি স্পোর্টস প্যারাসেইলিং কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
কক্সবাজার জেলা সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোশেদ চৌধুরী খোকা বলেন, “প্যারাসেইলিং এর মালিকদেরকে জবাবদিহিতার আওয়তায় আনতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসন থেকে কঠোর মনিটরিং করতে হবে। আর পর্যটক (রাইডার)দের ইনসোরেন্স এর আওতায় আনা হবে, যেন কোন দুর্ঘটনায় তাদের ক্ষতিপূরণ পায়। এছাড়া প্যারাসেইলিং কার্যক্রমের কারণে বিমানের ফ্লাইট রুটে মাঝ-আকাশে সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি করতে না পারে সে বিষয়ে সিভিল এভিয়োশন কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় রেখে প্যারাসেইলিং করতে হবে। বিশেষ করে পর্যটন এলকায় এ ধরনের বিনোদনমূলক ও অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস চলাকালীন সতর্কতা অবলম্বন না করা হলে এয়ার ট্রুাফিকের নিরাপত্তা হুমকির মুখেও পড়তে পারে”।
এ বিষয়ে ফ্লাই এয়ার সি র্স্পোটস প্যারাসেইলিং এর স্বত্ত্বাধিকারী মোহাম্মদ ফরিদ বলেন, “প্রতিবছর আমরা জেলা প্রশাসন এর এলার শাখা ও বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির একাউন্টে ২ লক্ষ টাকা টাকা দিয়ে কার্ড নবায়ন করি। কিন্তু ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের জন্য টাকা প্রদান করার পরও কার্ড নবায়ন করেনি জেলা প্রশাসন। কার্ড নবায়ন ছাড়া কেমনে ব্যবসা অবৈধভাবে পরিচালনা করেন, উত্তরে তিনি বলেন, তাদের সাথে ঝগড়া কিংবা জোরাজুরি করে কি কার্ড নিতে পারবো। ম্যানেজ করে ব্যবসা পরিচালনা করতেছি।
এ বিষয়ে কক্সবাজার বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষ (পরিচালক) গোলাম মর্তুজা জানান, “মেরিন ড্রাইভের দরিয়ানগর ও হিমছড় পয়েন্টে কয়েকটি প্যারাসেইলিং আছে। তবে ফ্লাইট রুটে মাঝ-আকাশে যেন সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরী না করে এই উচ্চতার নিরাপত্তার বিষয়টা শুধুমাত্র দেখবাল করে এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ। যেমন দরিয়ানগর ২০০ থেকে ২৫০ এর মধ্যে প্যারাসেইৈিলং করা যায়। এ বিষয়ে কয়েকজন অনুমতি রয়ছে। তবে এগুলো হালনাগাদ আছে কি-না দেখতে হবে”।