
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জেলা শহরের বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি ও নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতার কারণে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, দুর্ভোগে পড়েছেন কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীরা। একই সঙ্গে অতিবৃষ্টিতে গাছে থাকা আম ও কাঁঠাল ফেটে নষ্ট হওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন বাগান মালিক ও কৃষকরা।
জেলা শহরের শান্তিমোড়, বটতলা, পাঠানপাড়া, টিকরামপুর, পুরাতন বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে রয়েছে। অনেক বাসাবাড়ির উঠান ও নিচতলার কক্ষেও পানি ঢুকে পড়েছে। অপরদিকে সদর, শিবগঞ্জ, গোমস্তাপুর, নাচোল ও ভোলাহাট উপজেলার বিভিন্ন গ্রামেও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
নিউমার্কেট সবজি ব্যাবসায়ী রফিকুল ইসলাম জানান টানা বৃষ্টির কারণে কাঁচাবাজারে ক্রেতার উপস্থিতি কমে গেছে। ব্যবসা-বাণিজ্যেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। দিনমজুর, রিকশাচালক ও ভ্যানচালকদের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘর থেকে বের হচ্ছেন না।
কানসাটের আম ব্যাবসায়ী আনসারুল ইসলাম জানান জেলার বিভিন্ন আমবাগানে গাছে থাকা শেষ দিকের আমে ফাটল ধরেছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত আর্দ্রতায় কাঁঠালও ফেটে নষ্ট হচ্ছে। অনেক ফল গাছ থেকেই ঝরে পড়ছে। এতে মৌসুমের শেষ সময়ে এসে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন চাষিরা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের আমচাষি আব্দুল করিম বলেন, দুই-তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে গাছে থাকা অনেক আম ফেটে গেছে। যেগুলো বিক্রি করার কথা ছিল, এখন সেগুলোর দামও পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক ফল ফেলে দিতে হচ্ছে।
শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট এলাকার বাগান মালিক আশরাফুল ইসলাম বলেন, কাঁঠালগুলো পাকতে শুরু করেছিল। কিন্তু অতিরিক্ত বৃষ্টিতে অনেক কাঁঠাল ফেটে গেছে। এতে বাজারে বিক্রি করা যাচ্ছে না। বড় ধরনের লোকসান গুনতে হবে।
জেলা শহরের পাঠানপাড়া এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই শহরের রাস্তায় পানি জমে যায়। এবার টানা বর্ষণে চলাচলই কঠিন হয়ে পড়েছে। শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
রিকশাচালক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, সারাদিন বৃষ্টি হলে যাত্রী কম থাকে। ভিজে কাজ করাও কঠিন। দিন শেষে আয় অর্ধেকেরও কম হচ্ছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ডি ডি আতিকুল ইসলাম জানান, দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টির কারণে নিচু জমিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হলে আমন ধানের বীজতলা ও সবজি চাষে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত আর্দ্রতায় গাছে থাকা ফলেও ফাটল ও পচন দেখা দিতে পারে। কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরিচর্যার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে আবহাওয়া অনুকূলে না ফিরলে জেলার নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।