
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) প্রভাবশালী অফিসার থেকে প্রফেশনাল অফিসারদের মূল্যায়ন করার কথা বলেছেন ডিএমপির পুলিশ কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদ।
সোমবার (১৩ জুলাই) ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলন কক্ষে জুন-২০২৬ মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত ডিএমপির ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে এই তথ্য জানা যায়।
ডিএমপির ঊর্ধ্বতন একাধিক কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানা যায়, ডিএমপি কমিশনার তার কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে এক বার্তা দিয়েছেন। বলেছেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে অনেক প্রভাবশালী পুলিশ অফিসার রয়েছে তাদের থেকে যারা প্রফেশনাল অফিসার অর্থাৎ কাজে দক্ষতা তাদেরকে মূল্যায়ন করা হবে। এছাড়া জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্ন এবং পুলিশ হামলার শিকার হলে সর্বোচ্চ বল প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়।
মাসিক অপরাধ সভায় ডিএমপি মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, অপরাধীর কোনো দল মত বা সামাজিক পরিচয় নেই। পুলিশ সদস্যদের জনগণের স্বার্থে নিরপেক্ষ ও পেশাদারভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে রাজধানীতে অবৈধ অস্ত্র, ছিনতাইকারী, মাদক কারবারি ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
এই কর্মকর্তায় কথায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রত্যেক পুলিশ সদস্যকে নিজ নিজ অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। অপরাধীর কোনো দল, মত বা সামাজিক শ্রেণি নেই। পুলিশকে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দলের নয়, বরং জনগণের কল্যাণে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, থানা এলাকায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, ছিনতাইকারী, মাদক কারবারি ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে হবে। কোনো ধরনের অপরাধ যাতে থানা এলাকায় সংঘটিত হতে না পারে, সে লক্ষ্যে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন। ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কার দেওয়া হবে। অন্যদিকে দায়িত্বে অবহেলা, শৃঙ্খলাভঙ্গ কিংবা পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সভাশেষে ঢাকা মহানগরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বিশেষ অবদান রাখায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও ইউনিটকে পুরস্কৃত করেছেন ডিএমপি কমিশনার।
সভায় জানানো হয়, জুন মাসে ডিএমপির অপরাধ বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বিভাগের স্বীকৃতি অর্জন করেছে মিরপুর বিভাগ। অন্যদিকে শ্রেষ্ঠ থানার স্বীকৃতি পেয়েছে পল্লবী থানা। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে তুরাগ থানা এবং তৃতীয় হয়েছে শাহজাহানপুর থানা।
সহকারী পুলিশ কমিশনারদের মধ্যে ডেমরা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. শামীম হোসেন প্রথম এবং মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. আবদুল্লাহ আল মামুন দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন।
মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে আদাবর থানার এসআই তরুণ কুমার শ্রেষ্ঠ এসআই হিসেবে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন। দ্বিতীয় হয়েছেন পল্লবী থানার এসআই মো. সাইফুল ইসলাম। এএসআইদের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন যাত্রাবাড়ী থানার এএসআই মো আখতারুজ্জামান মণ্ডল পলাশ এবং দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন মিরপুর থানার এএসআই মো আনারুল ইসলাম।
গোয়েন্দা বিভাগের মধ্যে ডিবি-লালবাগ বিভাগ শ্রেষ্ঠ ইউনিট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। এ ছাড়া, ডিবি-ওয়ারী বিভাগের ওয়ারী জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ফজলুল করিম শ্রেষ্ঠ টিম লিডারের স্বীকৃতি পেয়েছেন।
ট্রাফিক বিভাগের মধ্যে ট্রাফিক-মিরপুর বিভাগ শ্রেষ্ঠ বিভাগের স্বীকৃতি অর্জন করেছে। শ্রেষ্ঠ ট্রাফিক সার্জেন্ট হিসেবে প্রথম হয়েছেন দারুস সালাম ট্রাফিক জোনের সার্জেন্ট মো. দেলোয়ার হোসেন। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন গুলশান ট্রাফিক জোনের সার্জেন্ট মো. আশরাফুল ইসলাম।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার স্বীকৃতি হিসেবে এ পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। এতে কর্মকর্তাদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিযোগিতা তৈরি হবে এবং জনসেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে।
অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, উপ-পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার, সহকারী পুলিশ কমিশনার, বিভিন্ন থানার অফিসার ইনচার্জসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।