
শেখ মুজিব যুদ্ধ চেয়েছে কি না, দেশ স্বাধীন হোক চেয়েছে কি না, সেই তর্কের বাইরেও শেখ মুজিবকে সামনে রেখেই মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। এ ছাড়া শাসকগোষ্ঠী দ্বারা রাষ্ট্র আকাঙ্ক্ষাকে বারবার ভুলুণ্ঠিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
শনিবার (১১ জুলাই) নাগরিক টিভিতে অনুষ্ঠিত এক টকশোতে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ব্যরিস্টার ফুয়াদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ তো দীর্ঘ সময় এই মাটিতে আলোচনার টপিক ছিল, নিঃসন্দেহে। কোনোভাবে এটা অস্বীকার করা যাবে না। আওয়ামী লীগ তো বাংলাদেশের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। বাংলাদেশের অনেকগুলো রাজনৈতিক আন্দোলনে আওয়ামী লীগের ভূমিকা আছে।’
শেখ মুজিবের অবদান নিয়ে ফুয়াদ বলেন, ‘শেখ মুজিব যুদ্ধ চেয়েছে কি না, দেশ স্বাধীন হোক চেয়েছে কি না, সেই তর্কের বাইরেও শেখ মুজিবকে সামনে রেখেই মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে। যারা যুদ্ধ করেছেন, তারা শেখ মুজিবকে সামনে রেখেই করেছেন। শেখ মুজিব দেশে ফিরে এসে তিন মাসের মধ্যেই ভারতের সৈন্যসামন্ত ফেরত নিতে বাধ্য করছেন ইন্দিরা গান্ধীকে, যেইটা শেখ মুজিব ছাড়া আসলে অন্য কেউ করতে পারত কি না, এটা আমার সন্দেহ আছে।’
বাকশালের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘শেখ মুজিবের হাতেই তো বাংলাদেশে বাকশাল কায়েম হয়েছে, বাংলাদেশে প্রথম ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়েছে তার নেতৃত্বে। সব গণমাধ্যম বন্ধ করে শুধু চারটা গণমাধ্যমকে রাখা হয়েছে। তাহলে ২৪ যেটা করেছে সেটা হচ্ছে এই যে আমার রাষ্ট্র আকাঙ্ক্ষাকে বারবার ভুলুণ্ঠিত করা হয়েছে শাসকগোষ্ঠী দ্বারা।’
বিভিন্ন আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে ফুয়াদ বলেন, ‘আমার ’৪৭-এ একটা স্বাধীন রাষ্ট্র বানাইলাম, এই রাষ্ট্র আমাকে আমার মর্যাদা দিতে পারে নাই, এ জন্য আমি ’৭১-এ একটা লড়াই করলাম। আবার আন্দোলন হইল ’৯০-তে, ’২৪-এ। এখন ’২৪-এর ফেনোমেনাটা যেটা করেছে সেটা হচ্ছে, একটা ফ্যাসিবাদকে আপনি কতবার পলিটিক্যালি সুযোগ দেবেন? ’৭৫-এর পরের ফ্যাসিবাদকে কিন্তু ব্যান করা হয় নাই এই আওয়ামী ফ্যাসিবাদ, এই শেখ পরিবারের ফ্যাসিবাদ। অতএব তার অনেক অবদান ছিল এটা যেমন সত্য, কিন্তু তার নেতৃত্বে বাংলাদেশে দুবার ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়েছে, এটাও সত্য।’
বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদের প্রাথমিক দিক নিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত জেনারাস, প্রথমবার ফ্যাসিবাদের পর তাকে কেউ ব্যান করার আলাপ তোলে নাই। তারা মনে করেছে, ঠিক আছে একটা পরিবর্তন হয়ে গেছে। জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে নিজেই ভারতের সঙ্গে আলোচনায় তাকে (শেখ হাসিনা) ফেরত আনছে। এর জন্য জিয়াউর রহমানকে জীবন দিতে হয়েছে। ৩২ নাম্বারের চাবিটা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিজে পৌঁছায় দিয়ে আসছে হাসিনার কাছে।’
আওয়ামী লীগের বিষয়ে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, ‘যে গুড ফেইথে কাজগুলো আওয়ামী লীগের প্রতি করা হয়েছিল, আওয়ামী লীগ ক্ষমতা পেয়ে তার প্রতিটা ওয়াদা, প্রতিটা আকাঙ্ক্ষার জায়গা আবার গত ১৭ বছরে ভেঙে দিয়েছে। অতএব এইবারের যেটা কনসেন্সাস ’২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের পরে, সেটা হচ্ছে আওয়ামী লীগকে পলিটিক্যালি স্পেস দেওয়া যাবে না। আওয়ামী লীগ পলিটিক্যালি ডেড হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের যে পলিটিক্যাল স্পিরিট থাকার কথা, এটাতে সে ইন্টারনালি অলরেডি মারা গেছে বহু আগে। ’২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান এটা কালেক্টিভলি এই জায়গায় ইজমা হয়ে গেছে, তাকে রায় দিছে যে আপনি আসলে ডেড। কারণ, আপনি আমার জন-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করছেন না।’
ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যেই রাষ্ট্র এত ব্রুটাললি তার জনগণের টাকায় কেনা মারণাস্ত্র দিয়ে এমনকি যুদ্ধাস্ত্র যেই অস্ত্র পুলিশ ব্যবহার করতে অ্যালাউড না সারা দুনিয়ায়, যেটা শুধু অনলি অ্যালাউড টু ইউজ ইন ব্যাটলফিল্ড সে যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার উপযোগী মারণাস্ত্র ব্যবহার করেছেন দেশের মানুষের ওপরে। এলএমজি, মেশিনগান, স্নাইপার, ৭.৬২ মিলিমিটার, ৯ মিলিমিটার অটোমেটিক রাইফেল এগুলো ব্যবহার করেছেন।’
‘আপনার রেসপন্স টিম, আপনার এলিট ফোর্স এগুলো আপনি লেলিয়ে দিছেন। ১৭ বছরে আমার রাজনীতি, আমার নির্বাচনি ব্যবস্থাপনাটা ধ্বংস করে দিয়েছেন। দেশের মানুষের প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে, আমার অর্থনীতির যে বেহাল অবস্থা। এরপর জাতীয় নিরাপত্তার যে হুমকি তৈরি করে দিয়ে গেছে আওয়ামী লীগ, আমার রাষ্ট্রের প্রতিটা প্রতিষ্ঠানের সিকিউরিটি কমপ্রোমাইজড হয়ে গেছে।’
শেখ হাসিনার শাসনামল সম্পর্কে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমার অর্থনীতি ধ্বংস করে দিয়েছে, আমার রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছে, আমার সোভেরেনটি কমপ্রোমাইজ করে দিয়েছেন। গোপন চুক্তি করেছেন, কদিন আগে যেটা জানা গেল আপনার এই গত বছর জানলাম ‘৭৪-এ যে আমাদের বর্ডারের প্রোটোকল হয় আমাদের বিএসএফ এবং বিডিআরের মধ্যে, সেখানে বলা ছিল ১৭৫ গজের ভেতরে কোনো দেশ কোনো স্থাপনা তৈরি করবে না, সেটা আবার এখন শুরু। সেটা আওয়ামী লীগ আমলে তারা বহুবার করেছে।’
ব্যারিস্টার ফুয়াদ আরও বলেন, ‘২০২৫ সালে ইন্ডিয়ান হাইকমিশনারকে সরকার ডেকে নিয়ে জিজ্ঞেস করেছে, জিজ্ঞেস করার পরে বলেছে কেন, ২০১০ সালে তো আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একটা নতুন প্রোটোকল হয়েছে, উনি তো আমাদের অনুমতি দিছেন ১৫০ গজের ভেতরে করতে। সেগুলোর মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকার বাতিল করা যায় এমন অনেকগুলো এগ্রিমেন্ট কিন্তু বাতিল করেছে।’