শুক্রবার ১০ জুলাই ২০২৬ ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩

শিরোনাম: সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন   অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহেই ভোট, হাওর অঞ্চল থেকে শুরু হতে পারে নির্বাচন   জুলাই অভ্যুত্থানের পর পলাতক ৫৭ পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত   প্রশাসনে বড় পদোন্নতি, যুগ্ম সচিব হলেন ১৭৯ কর্মকর্তা   বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের স্বপ্ন ভাঙতে পারে যাদের   মৃত্যুর পরও কি মানুষের আমলনামায় সওয়াব যোগ হয়?   অনেক রক্ত ও আন্দোলনের বিনিময়ে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে: রিজভী   
অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহেই ভোট, হাওর অঞ্চল থেকে শুরু হতে পারে নির্বাচন
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৬ এএম   (ভিজিট : ৪৯)

আগামী অক্টোবরকে সামনে রেখে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংস্থাটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই ভোটগ্রহণ শুরু হতে পারে। এ লক্ষ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের জন্য পৃথক খসড়া কর্মপরিকল্পনা (রোডম্যাপ) তৈরি করেছে ইসি। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধে তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। আর স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হতে পারে হাওর অঞ্চল দিয়ে।

এসব প্রস্তুতির পাশাপাশি নির্বাচন আচরণবিধিমালা, নির্বাচন আইন, নির্বাচন বিধিমালা, ভোটার তালিকা প্রণয়ন, নির্বাচনি দ্রব্যাদি সংগ্রহসহ অন্যান্য প্রস্তুতির কাজও সমানতালে এগিয়ে নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।

অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে হতে পারে ভোটগ্রহণ
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বরাবরই বলা হয়েছে, অক্টোবর থেকে ভোট শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে ১ অক্টোবর থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে কিনা জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘ফার্স্ট উইকেই ধরেন। অক্টোবর ধরে যখন বলেছি, তখন মনে করেন ফার্স্ট উইকেই নির্বাচন শুরু হবে। নির্বাচন আগানো যায় না, আগানো অনেকটা অসুবিধা। পেছনে গেলে কোনও অসুবিধা নেই।’

অক্টোবরে নির্বাচন করার পরিকল্পনা থাকলেও স্থানীয় সরকারের পাঁচটি স্তরের মধ্যে কোনটির নির্বাচন আগে হবে, তা নিয়ে সংশয় ছিল। এ প্রসঙ্গে গত সোমবার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘আমরা বলেছি, কোন ইলেকশন বেশি প্রয়োজন। এখন সবগুলো পেন্ডিং, সবগুলো তো একত্রে করা যাবে না। কোনটা বেশি দরকার? মানুষের উপকার কোথায় বেশি হয়? কোথায় মানুষ অসুবিধা ভোগ করছে? সরকারের সঙ্গে এসব বিষয়ে আমাদের কিছু আলাপ-আলোচনা হবে এবং তার ভিত্তিতেই আমরা নির্বাচনের সব ধরনের তফসিল ঘোষণা করবো।’

কোন নির্বাচন আগে হবে এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সব প্রতিষ্ঠান খালি আছে। আইনের বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। এখন সব নির্বাচন যেহেতু একত্রে আসছে, তাই আইনের বাধ্যবাধকতা পালন ওইভাবে সম্ভব হবে না। তবে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছি, যাতে নির্দিষ্ট সময়ে সব নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করতে পারি। তবে এটা বুঝতে পারেন, ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ও পৌরসভা থেকে নির্বাচন শুরু হওয়া বাস্তব ক্ষেত্রে অধিক যৌক্তিক। অন্যদিকে সিটি করপোরেশন তো প্রশাসক দিয়ে চলছে।’

হাওর অঞ্চল দিয়ে শুরু হতে পারে নির্বাচন
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের খসড়া কর্মপরিকল্পনায় (রোডম্যাপ) সারা দেশকে চারটি ক্লাস্টার বা জোনে ভাগ করে নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। জোনগুলো হলো হাওর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল, পার্বত্য ও উপকূলীয় অঞ্চল, নদীপ্রধান ও চরাঞ্চল এবং সমতল ও শহরাঞ্চল।

কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, হাওর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের (সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ও হবিগঞ্জের একাংশ) জন্য নির্বাচনের উপযুক্ত সময় সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর। এ সময় পানি থাকায় নৌপথে চলাচল সহজ হয় বলেও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।

পার্বত্য ও উপকূলীয় অঞ্চল রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার, হাতিয়া, সন্দ্বীপ ও বরিশালের উপকূলীয় এলাকায় বর্ষাকালে পাহাড়ধস, অতিবৃষ্টি এবং সমুদ্রে নিম্নচাপ ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি থাকে। তাই এসব অঞ্চলে নির্বাচন আয়োজনের উপযুক্ত সময় ধরা হয়েছে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি।

নদীপ্রধান ও চরাঞ্চল কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, শরীয়তপুর, চাঁদপুর ও রাজবাড়ীর চরাঞ্চলের জন্য সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়কে উপযুক্ত বলা হয়েছে। কারণ জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত বর্ষা ও নদীভাঙনের কারণে চরের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ঝুঁকিপূর্ণ থাকে।

এ ছাড়া সমতল ও শহরাঞ্চল অর্থাৎ অন্যান্য সব বিভাগ, জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের ক্ষেত্রে ভৌগোলিক ও জলবায়ুগত প্রতিবন্ধকতা কম থাকায় বর্ষাকাল বাদে যেকোনও সময় নির্বাচন আয়োজন করা যেতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

রোডম্যাপ অনুযায়ী, হাওর অঞ্চলে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন শুরু হবে কিনা জানতে চাইলে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘রোডম্যাপ এটা আমাদের একটা কর্মপন্থা। এখন হাওর অঞ্চলে যদি পানি থাকে আমি যদি রোডম্যাপে লিখেও থাকি, আর যদি পানি থাকে, তাহলে নিকলি এলাকা বাদ দিয়ে নির্বাচন করবো।’

আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধে ঘোষণা হতে পারে তফসিল
নির্বাচন কমিশনের কর্মপরিকল্পনায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচন আইন, নির্বাচন বিধিমালা ও নির্বাচন আচরণবিধিমালার প্রয়োজনীয় সংশোধন ও একীভূতকরণের কাজ ১৫ আগস্টের মধ্যে শেষ করার কথা বলা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে ১৫ আগস্টের পর, অর্থাৎ আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধে তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।

সিটি করপোরেশনের রোডম্যাপ অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ১৩টি সিটি করপোরেশন রয়েছে। এর মধ্যে নতুন যুক্ত হয়েছে বগুড়া সিটি করপোরেশন। কোনও সিটি করপোরেশনেই বর্তমানে নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় সবগুলোই নির্বাচন উপযোগী।

ইসির চারটি কর্মপরিকল্পনায় ধাপভিত্তিক নির্বাচনের কিছু চ্যালেঞ্জও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, অতীতে এক ধাপের নির্বাচন থেকে অন্য ধাপের নির্বাচনের সময়ের ব্যবধান কম থাকায় মনোনয়নপত্র দাখিল, যাচাই-বাছাই, আপিল নিষ্পত্তি, প্রতীক বরাদ্দ, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ, প্রশিক্ষণ এবং ব্যালট পেপার পরিবহনসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

এ ছাড়া সময়ের ব্যবধান কম থাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় দায়িত্ব পালনে অসুবিধা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

রোডম্যাপে আরও বলা হয়েছে, নির্বাচনের সময় ও ধাপ নির্ধারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিশেষ ভৌগোলিক অবস্থা, আবহাওয়া, পাবলিক পরীক্ষা (মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক) এবং ধর্মীয় উৎসব বিবেচনায় নেওয়া হবে।

তফসিল ঘোষণার আগে ও পরে যা প্রস্তুতি
রোডম্যাপে তফসিল ঘোষণার আগে আইন ও বিধি সংশোধন, ম্যানুয়াল ও নির্দেশিকা চূড়ান্তকরণ, নির্বাচন পরিচালনা ও প্রশিক্ষণ নির্দেশিকা প্রস্তুত, নির্বাচনি দ্রব্যাদি এবং স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স সংগ্রহ ও ব্যবহার উপযোগী করার কথা বলা হয়েছে।

এ ছাড়া ম্যানুয়াল, ফরম, প্যাকেট, প্রশিক্ষণ নির্দেশিকা, পোস্টার, পরিচয়পত্র ও অন্যান্য নির্বাচনি সামগ্রী প্রস্তুত, সংগ্রহ ও মুদ্রণ করা হবে। মনোনয়নপত্র, নির্দেশিকা, ব্যালট পেপার ও নির্বাচনি মালামাল মাঠপর্যায়ে পাঠানো হবে।

নির্বাচনের আগে ও পরের বাজেট প্রস্তুত ও বরাদ্দ, ছবিসহ ভোটার তালিকা চূড়ান্তকরণ, ভোটকেন্দ্রের খসড়া প্রকাশ, দাবি-আপত্তি নিষ্পত্তি, অনুমোদন এবং ভোটগ্রহণের ১৫ দিন আগে গেজেট প্রকাশ করা হবে।

তফসিল ঘোষণার ১৫ দিন আগে সেনাবাহিনীসহ সব বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করা হবে। এরপর প্রচারসামগ্রী অপসারণ, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্যানেল প্রস্তুত করে তফসিল ঘোষণা করবে ইসি।

তফসিল ঘোষণার পর রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ, নির্বাহী ও বিচারিক হাকিম নিয়োগ, বিভিন্ন পরিপত্র জারি, অভিযোগ গ্রহণে অঞ্চলভিত্তিক কর্মকর্তা নিয়োগ, ঋণখেলাপিদের তথ্য সংগ্রহে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে চিঠি, আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত বৈঠক, ট্রাইব্যুনাল গঠন, প্রশিক্ষণ এবং দেশি-বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের অনুমোদনের কাজ করা হবে।

ভোট দিতে পারবেন যারা
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩১ জুলাই যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে, তারা আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন।

এ প্রসঙ্গে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘এটা ৩০ জুন পর্যন্ত ছিল। পরে কর্মকর্তারা বললেন, একটু বাড়িয়ে দেন। পরে সেটা আমরা ৩১ জুলাই পর্যন্ত করে দিয়েছি।’

ভোটার তালিকা মুদ্রণের কাজ কবে শেষ হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিজি প্রেস ইতোমধ্যে ইসির কাছে তাদের চাহিদা জানিয়ে চিঠি দিয়েছে। তারা বলেছে, প্রায় ৪১ কোটি টাকা লাগবে। আমরাও চিঠি দিয়ে তাদের জানিয়ে দিয়েছি।

নির্বাচন ঘিরে ইসির আরও প্রস্তুতি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকরা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষক থাকবেন কিনা জানতে চাইলে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘বিদেশি পর্যবেক্ষক থাকবে না, দেশি পর্যবেক্ষক থাকবে। বিদেশি পর্যবেক্ষক রাখতে গেলে অনেক টাকা খরচ হবে।’

এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে আইন, নির্বাচন বিধিমালা ও নির্বাচন আচরণবিধিমালার প্রয়োজনীয় সংশোধনের কাজ করছে ইসি। এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতও চেয়েছে সংস্থাটি।

সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রীর একটি বক্তব্যের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বেসরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা প্রার্থী হতে পারবেন কিনা তা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ নিয়ে আপিল বিভাগের রায় আছে। শিক্ষকরা প্রার্থী হতে পারবেন। আমরা বিষয়টি বিধিতে যুক্ত করতে পারি অথবা ওই আইনের আলোকে একটি সার্কুলার দিয়ে দেবো।’









  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]