প্রকাশ: রোববার, ২৮ জুন, ২০২৬, ৫:২৮ পিএম (ভিজিট : ২৪)

ম্যাচের আগে থেকেই আলোচনা ছিল তুঙ্গে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ড্র হলেই দুই দলেরই নকআউট পর্বে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছিল। ফলে বিশ্বকাপের ‘জে’ গ্রুপের শেষ ম্যাচ ঘিরে অনেকে শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, দেখা যেতে পারে কোনো ‘সমঝোতার ড্র’। কিন্তু মাঠে যা ঘটল, তা যেন সব জল্পনা-কল্পনাকেই ছাপিয়ে গেল।
এই ফলের মাধ্যমে গ্রুপ রানার্সআপ হিসেবে নকআউট পর্বে উঠেছে অস্ট্রিয়া। অন্যদিকে অন্যতম সেরা তৃতীয় দল হিসেবে শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে আলজেরিয়াও। তবে এই দুই দলের ড্রয়ে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে ইরানের।
অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়ার মধ্যকার ম্যাচটি শেষ হয়েছে অবিশ্বাস্য ৩-৩ সমতায়। আর সেই নাটকীয় ড্রয়ের পর ‘পাতানো ম্যাচ’ বিতর্ক রীতিমতো উড়িয়ে দিয়েছেন অস্ট্রিয়ার প্রধান কোচ রালফ রাংনিক, ‘যখন একটি ম্যাচ ৩-৩ গোলে শেষ হয়, তখন কেউ কোনোভাবেই বলতে পারে না যে এটি আগে থেকে ঠিক করা ছিল। বিশেষ করে শেষ ৯০ সেকেন্ডে যা ঘটেছে, তার পর তো এমন ধারণার কোনো ভিত্তিই থাকে না,’ বলেন ৬৭ বছর বয়সী এই কোচ।
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে যেন ফুটবল নাটকের চূড়ান্ত রূপ দেখা যায়। ৯৩তম মিনিটে অধিনায়ক রিয়াদ মাহরেজের গোলে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আলজেরিয়া। তখন মনে হচ্ছিল জয় নিয়েই মাঠ ছাড়বে উত্তর আফ্রিকার দলটি। কিন্তু শেষ আক্রমণে বদলি খেলোয়াড় সাশা কালাইজিচ গোল করে অস্ট্রিয়াকে সমতায় ফেরান।
এই অবিশ্বাস্য সমাপ্তি রাংনিককেও বিস্মিত করেছে, ‘খেলার আর মাত্র তিন মিনিট বাকি থাকতে যদি কেউ আমাকে বলত এমন কিছু ঘটবে, আমি তাকে পাগল বলতাম। প্রায় ৪০ বছর ধরে কোচিং করছি, কিন্তু এত নাটকীয় এবং এত অপ্রত্যাশিত কোনো ম্যাচ আমার মনে পড়ে না।’
‘সবাই যেখানে ০-০ কিংবা ১-১ গোলের নিস্তেজ ড্রয়ের অপেক্ষায় ছিল, সেখানে ম্যাচ শেষ হলো ৩-৩ ব্যবধানে। এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য। ড্রেসিংরুমে সবাই আনন্দে পাগলপ্রায়। আলফ্রেড হিচককও যদি এমন কোনো গল্প লিখতেন, আমি সম্ভবত বলতাম তিনি পুরোপুরি উন্মাদ হয়ে গেছেন।