সোমবার ২২ জুন ২০২৬ ৮ আষাঢ় ১৪৩৩

শিরোনাম: চলতি বিশ্বকাপে প্রথম পেনাল্টি পেল আর্জেন্টিনা, মিস করেছেন মেসি   হঠাৎ ভূমিকম্পে আতঙ্ক, কেঁপে উঠল দেশ   ঢাকা-তেহরান সরাসরি ফ্লাইট চালুর প্রস্তাব ইরানের   চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অস্ত্রসহ ৩ ডাকাত গ্রেফতার   ‘২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে’ অগ্রণী ভূমিকা আবু বক্কর সিদ্দিকী সুজনের   ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করলেন কিয়ার স্টারমার   মালয়েশিয়ার রাজার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সৌজন্য সাক্ষাৎ   
তওবায় কি হারাম সম্পদ হালাল হয়? ইসলাম কী বলে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ১১:৪৩ এএম   (ভিজিট : ৩৯)

মানুষ জীবনের নানা পর্যায়ে ভুল করে ফেলতে পারে কখনও অজ্ঞতায়, কখনও লোভে, আবার কখনও কঠিন পরিস্থিতির চাপে হারাম উপার্জনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। কিন্তু একজন মুমিনের সৌন্দর্য হলো, সে ভুল বুঝতে পারলে ফিরে আসে এবং আল্লাহর দিকে তাওবা করে। তবে প্রশ্ন হলো শুধু তাওবা করলেই কি হারাম সম্পদ হালাল হয়ে যায়? নাকি এর জন্য নির্দিষ্ট শরিয়তসম্মত করণীয় আছে? ইসলামে এই বিষয়ে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে, যা জানা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য জরুরি।

তাওবা করলেই কি হারাম সম্পদ হালাল হয়?

শুধু মুখে তাওবা করলেই হারাম সম্পদ বৈধ হয়ে যায় না। তাওবার মূল শর্ত হলো তিনটি—

পাপ থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকা
অতীত কাজের জন্য অনুতপ্ত হওয়া
ভবিষ্যতে আর না করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করা
কিন্তু যদি অন্যের হক জড়িত থাকে, তবে সেটি ফেরত দেওয়া ছাড়া তাওবা পূর্ণ হয় না।

হারাম সম্পদ থেকে মুক্তির শরয়ী পদ্ধতি

১. প্রকৃত মালিককে হক ফিরিয়ে দেওয়া (প্রথম শর্ত)

যে সম্পদ অন্যায়ভাবে অর্জিত হয়েছে, তা তার প্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দেওয়াই বাধ্যতামূলক। এটি ইসলামের মৌলিক ন্যায়বিচারের অংশ। কুরআনের বাণী—

إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَىٰ أَهْلِهَا

‘নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দেন যে, তোমরা আমানত তার হকদারের কাছে ফিরিয়ে দেবে।’ (সুরা আন-নিসা: আয়াত ৫৮)

২. মালিক খুঁজে না পেলে করণীয়

যদি মালিককে খুঁজে পাওয়া না যায় বা ফেরত দেওয়া অসম্ভব হয়, তবে সেই সম্পদ দান করে দিতে হবে। এটি সওয়াবের জন্য নয়। এটি আত্মশুদ্ধির জন্য বাধ্যতামূলক পদক্ষেপ। এভাবে ব্যক্তি হারাম সম্পদের দায় থেকে মুক্ত হয়।

৩. খাঁটি তাওবা ও আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা

হারাম সম্পদ থেকে ফিরে আসার পর আন্তরিক তাওবা করা জরুরি। কুরআনের বাণী—

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا تُوبُوا إِلَى اللَّهِ تَوْبَةً نَّصُوحًا

‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর কাছে খাঁটি তাওবা কর।’ (সুরা আত-তাহরিম: আয়াত ৮)

হালাল উপার্জনের গুরুত্ব ও বরকত

ইসলামে হালাল উপার্জন শুধু জীবিকা নয় এটি ইমানের অংশ এবং বরকতের উৎস।

১. হালাল উপার্জনের বরকত ও তৃপ্তি

হাদিসে পাকে এসেছে—

مَنْ أَخَذَهُ بِحَقِّهِ وَوَضَعَهُ فِي حَقِّهِ فَنِعْمَ الْمَعُونَةُ هُوَ

‘যে ব্যক্তি সম্পদ সঠিকভাবে অর্জন করে এবং সঠিকভাবে ব্যয় করে, এটি তার জন্য উত্তম সাহায্য।’ (মুসলিম ১০৫২)

২. হালাল উপার্জন অনুসন্ধান করা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব

হাদিসে পাকে এসেছে—

طَلَبُ كَسْبِ الْحَلَالِ فَرِيضَةٌ

‘হালাল রুজি অনুসন্ধান করা ফরজ।’ (বায়হাকি  ৫৫২)

৩. নিজ হাতে উপার্জনের মর্যাদা

হাদিসে পাকে এসেছে—

مَا أَكَلَ أَحَدٌ طَعَامًا خَيْرًا مِنْ أَنْ يَأْكُلَ مِنْ عَمَلِ يَدِهِ

‘কেউ নিজের হাতের পরিশ্রমের উপার্জনের চেয়ে উত্তম খাবার কখনো খায়নি।’ (বুখারি ২০৭২)

ইসলামে তাওবা শুধু একটি মৌখিক প্রক্রিয়া নয় এটি একটি পূর্ণাঙ্গ পরিবর্তনের নাম। হারাম উপার্জন থেকে মুক্তি পেতে হলে শুধু অনুতাপ যথেষ্ট নয়; বরং অন্যের হক ফিরিয়ে দেওয়া, হারাম সম্পদ থেকে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত করা এবং হালাল জীবনের দিকে ফিরে আসা আবশ্যক।

যে ব্যক্তি সত্যিকার অর্থে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে, আল্লাহ তাকে শুধু ক্ষমাই করেন না বরং তার জীবনকে বরকত ও প্রশান্তিতে ভরিয়ে দেন।









  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]