
বিগত ১৫ মাসে দেশে-বিদেশে প্রায় ৪৩ হাজার কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ জব্দ ও অবরুদ্ধ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন- দুদক। এর মধ্যে চলতি বছরের প্রথম ৩ মাসেই প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, আদালতের চূড়ান্ত রায় পাওয়ার পর এসব সম্পদের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
রাজধানীর গুলশান-২ এলাকার একটি ২ হাজার বর্গফুটের ফ্ল্যাট গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে জব্দ করে দুর্নীতি দমন কমিশন। ফ্ল্যাটটির মালিক ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকী।
দুদকের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, গুলশান-২ এর যে প্লটটিতে এই ফ্ল্যাটটি তৈরি করা হয়েছে, সেটি ইস্টার্ণ হাউজিংকে অবৈধভাবে পাইয়ে দেন টিউলিপ সিদ্দিকী। আর এর বিনিময়ে এই প্লটের একটি ফ্ল্যাট পান টিউলিপের বোন আজমিনা।
আজমিনার ফ্ল্যাটের মতো এমন ১৯৩টি ফ্ল্যাট জব্দ করেছে দুদক। নানা দুর্নীতি আর অনিয়মের অভিযোগে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত দেশ-বিদেশে প্রায় ৪৩ হাজার কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোক বা অবরুদ্ধ করেছে সংস্থাটি। এর মধ্যে রয়েছে, জমি, বাড়ি, ভবন, ফ্ল্যাট, গাড়ি, দোকান, মার্কেট, জাহাজ, ব্যাংক হিসাব, সঞ্চয়পত্র, এফডিআর ও স্বর্ণালংকার।
দুদকের দেওয়া তথ্যমতে, দেশে অবরুদ্ধ করা হয়েছে ২৩ হাজার ১৭২ কোটি টাকার বেশি। আর ক্রোক করা হয়েছে ৬ হাজার ১৩৭ কোটি টাকার বেশি সম্পদ। বিদেশে অবরুদ্ধ সম্পদের পরিমাণ ৯৪৪ কোটি টাকার বেশি আর ক্রোক করা সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৯৭ কোটি টাকা।
এ প্রসঙ্গে দুদক’র উপ-পরিচালক আক্তারুল ইসলাম বলেন, দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালত অনুসন্ধান পর্যায়ে এমনকি তদন্ত পর্যায়েও অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোক বা অবরুদ্ধের অনুমোদন দিয়ে থাকেন।
দুদক বলছে, এসব সম্পদ যেন বিক্রি বা হস্তান্তর করতে না পারে, সে লক্ষ্যে জব্দ বা অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
দুদক উপ-পরিচালক আক্তারুল ইসলাম আরও জানান, ২০২৫ সালে অনেক অনুসন্ধান বা তদন্ত কার্যক্রমও বেশ এগিয়েছিল। অনুসন্ধানের সংখ্যা যেহেতু বেশি, এ পর্যায়ে অনুসন্ধানকারী তদন্ত কর্মকর্তাগণ বিজ্ঞ আদালতে আবেদনের মাধ্যমে এই সম্পদ অবরুদ্ধ বা ফ্রিজ করেছেন।
দুর্নীতির অভিযোগ থাকা এসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পদ আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত অবরুদ্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে দুদক।