প্রকাশ: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ১২:৩০ এএম (ভিজিট : ১৫২৯)

বাংলার সুলতানি আমলের স্থাপত্য ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শনগুলোর মধ্যে অন্যতম চাঁপাইনবাবগঞ্জের দারাসবাড়ি মসজিদ। প্রায় পাঁচ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকা এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি অতীতের গৌরবময় ইতিহাস ও স্থাপত্যশৈলীর নীরব সাক্ষ্য বহন করছে। ইতিহাসপ্রেমী ও পর্যটকদের কাছে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণীয় স্থান হিসেবে পরিচিত।
জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার গৌড়-লখনৌতি অঞ্চলের বাংলাদেশ অংশে অবস্থিত দারাসবাড়ি মসজিদকে ওই এলাকার অন্যতম বৃহৎ মসজিদ হিসেবে ধরা হয়। ঐতিহাসিক তথ্য ও কলকাতার ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামে সংরক্ষিত শিলালিপি থেকে জানা যায়, ১৪৭৯ খ্রিস্টাব্দে বাংলার সুলতান শামসুদ্দীন আবুল মুজাফফর ইউসুফ শাহ এই মসজিদ নির্মাণ করেন। সে সময় গৌড় অঞ্চলটি ছিল বাংলার গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।
ঐতিহাসিক বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে, একসময় মসজিদটির ছাদে ২৪টি গম্বুজ ও চারটি চৌচালা আচ্ছাদন ছিল। সময়ের প্রবাহে গম্বুজগুলো ধসে গেলেও এখনো মসজিদের ইট-পাথরের স্তম্ভ ও দেয়ালের কিছু অংশ অটুট রয়েছে। মসজিদের অষ্টভুজাকৃতির বুরুজ এবং দেয়ালের কারুকাজ সুলতানি আমলের উন্নত নির্মাণশৈলীর পরিচয় বহন করে।
মসজিদের পাশেই রয়েছে একটি প্রাচীন মাদরাসার ধ্বংসাবশেষ ও বড় একটি জলাধার। ইতিহাসবিদদের ধারণা, একসময় এই এলাকাটি মসজিদ, মাদরাসা ও জলাধারকে কেন্দ্র করে একটি পূর্ণাঙ্গ ধর্মীয় ও শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছিল।
বর্তমানে মসজিদের বড় অংশ ধ্বংসপ্রাপ্ত হলেও এর অবশিষ্ট কাঠামো এখনো অতীতের ঐতিহ্য স্মরণ করিয়ে দেয়। ভারতীয় সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত এই প্রত্নস্থলটি ঘুরতে এসে অনেক দর্শনার্থী সুলতানি আমলের স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শন কাছ থেকে দেখার সুযোগ পান।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর থেকে সিএনজি, অটোরিকশা কিংবা বাসে করে ছোট সোনা মসজিদের নিকটবর্তী দারাসবাড়ি মসজিদে সহজেই যাওয়া যায়। স্থানীয়দের মতে, যথাযথ সংরক্ষণ ও পর্যটন সুবিধা বাড়ানো হলে এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি ভবিষ্যতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।