
ফাইল ছবি
দীর্ঘ ১৭ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রত্যাশিত গণতন্ত্রে উত্তরণের জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে একটি আসনের প্রার্থী মৃত্যুবরণ করায় সেখানে ভোট স্থগিত করা হয়েছে। ফলে আগামীকাল ভোট অনুষ্ঠিত হবে মোট ২৯৯ আসনে। তবে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী দুটি আসনের ফলাফল পরে ঘোষণা করা হবে। এতে করে মূলত নির্বাচন শেষে তাৎক্ষণিকভাবে ফলাফল জানা যাবে ২৯৭ আসনের।
নির্বাচনী মাঠের সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, এসব আসনের বড় অংশেই বিএনপি এগিয়ে রয়েছে। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী অন্তত ২১৯টি আসনে বিএনপির প্রার্থীরা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। এছাড়া ১৪টি আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা এগিয়ে এবং ৩৭টি আসনে জামায়াতের প্রার্থীরা শক্ত অবস্থানে রয়েছে। এর বাইরে ২৯টি আসনে বিএনপি, জামায়াত ও বিএনপি বিদ্রোহীদের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস মিলেছে।
ঢাকা বিভাগে বিএনপির দাপট, বেশ কয়েকটি আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই:
ঢাকা বিভাগের ১৩ জেলায় মোট ৭০টি আসনের মধ্যে ঢাকা জেলায় ২০টি আসনের মধ্যে ১২টিতে বিএনপি এগিয়ে। ঢাকা-৫, ৭, ১০, ১৩ ও ১৫ আসনে জামায়াতের সঙ্গে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। ঢাকা-১১ আসনে বিএনপির এম এ কাইয়ুম ও এনসিপির নাহিদ ইসলামের মধ্যে তুমুল লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ঢাকা-১২ আসনে এগিয়ে বিএনপি বিদ্রোহী সাইফুল আলম নীরব। ঢাকা-১৪ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা।
গাজীপুরের পাঁচটি আসনেই বিএনপি এগিয়ে থাকলেও সবকটিতেই জামায়াতের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে। টাঙ্গাইলে আটটির মধ্যে ছয়টি আসনে বিএনপি এগিয়ে। মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ ও শরীয়তপুরে অধিকাংশ আসনেই বিএনপির প্রাধান্য।
ময়মনসিংহ বিভাগে প্রায় একক আধিপত্য বিএনপির:
ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলার মধ্যে জামালপুরের সব আসনেই বিএনপি এগিয়ে। শেরপুরে দুটি, ময়মনসিংহে ছয়টি এবং নেত্রকোনায় চারটি আসনে বিএনপির অবস্থান শক্ত। ময়মনসিংহ-৫ আসনে জামায়াত প্রার্থী এগিয়ে থাকলেও বাকি আসনগুলোতে বিএনপিরই আধিপত্য।
চট্টগ্রাম বিভাগে ৫৮ আসনের বেশিরভাগই বিএনপির দখলে:
ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চাঁদপুর—সব মিলিয়ে ৫৮ আসনের মধ্যে অধিকাংশেই বিএনপি এগিয়ে। কুমিল্লা-১১, চাঁদপুর-৪ ও ময়মনসিংহ-৫ আসনে জামায়াত সুবিধাজনক অবস্থানে। তিন পার্বত্য জেলাতেও বিএনপি এগিয়ে রয়েছে।
রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে বিএনপি-জামায়াতের মুখোমুখি লড়াই:
রাজশাহী বিভাগের ৩৯ আসনের মধ্যে অধিকাংশেই বিএনপি এগিয়ে থাকলেও বেশ কয়েকটি আসনে জামায়াত শক্ত অবস্থানে রয়েছে। সিরাজগঞ্জ, পাবনা, নাটোর, রাজশাহী ও নওগাঁয় জামায়াতের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে।
রংপুর বিভাগের ৩৩ আসনের মধ্যে বিএনপি এগিয়ে থাকলেও দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধায় জামায়াত ও জাতীয় পার্টির সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে।
খুলনা বিভাগে মিশ্র চিত্র:
খুলনার ৩৬ আসনের মধ্যে প্রায় অর্ধেকেই বিএনপি এগিয়ে, তবে যশোর,নড়াইল, বাগেরহাট, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ ও খুলনায় জামায়াতের কিছু শক্ত অবস্থান রয়েছে। কিছু আসনে বিএনপি বিদ্রোহীরাও প্রভাব বিস্তার করছে।
বরিশাল ও সিলেটে বিএনপির একচেটিয়া প্রভাব:
বরিশাল বিভাগের ২১ আসনের মধ্যে অন্তত ১৩টিতে বিএনপি এগিয়ে। বরিশাল, পটুয়াখালী ও বরগুনায় প্রায় একতরফা আধিপত্য বিএনপির।
সিলেট বিভাগের ১৯ আসনের মধ্যে অধিকাংশেই বিএনপি এগিয়ে। কেবল কয়েকটি আসনে জামায়াত শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছে।
সার্বিক চিত্র:
সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বড় মোড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দীর্ঘ বিরতির পর জনগণ আবারও সরাসরি ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছে। প্রাথমিক বিশ্লেষণে বিএনপির বড় জয় নিশ্চিত মনে হলেও জামায়াত ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা বেশ কিছু আসনে ফলাফলকে অনিশ্চিত করে তুলতে পারে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন দেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক