| শিরোনাম: |
সংগৃহীত ছবি
সরকারি ভূমিসেবার কাগজে-কলমে থাকা চিত্রের সঙ্গে সাধারণ মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতার কতটা মিল রয়েছে, তা সরাসরি যাচাই করতেই পরিচয় গোপন করে উত্তর খান ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যান তিনি।
বোরকার আড়ালে সাধারণ সেবাগ্রহীতার ছদ্মবেশে দীর্ঘ সময় অফিসে অবস্থান করেন ডিসি। এ সময় অন্য সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সুবিধা-অসুবিধা, ভোগান্তি ও সেবা পাওয়ার অভিজ্ঞতা সরাসরি শোনেন। একই সঙ্গে নিজেকেও একজন সাধারণ সেবাগ্রহীতা হিসেবে উপস্থাপন করে ভূমিসেবা নেওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটি পর্যবেক্ষণ করেন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পরিদর্শনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ভূমিসেবা নিতে আসা মানুষ কোনো ধরনের অযথা বিলম্ব, অনিয়ম, হয়রানি কিংবা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন কি না, তা সরাসরি যাচাই করা।
পরিদর্শনের সময় ভূমি অফিসের সার্বিক কার্যক্রমও খুঁটিয়ে দেখেন ফরিদা খানম। সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আচরণ, দাপ্তরিক প্রক্রিয়ার জটিলতা এবং সেবা প্রদানের সময়—সবকিছুই তিনি পর্যবেক্ষণ করেন। সাধারণ মানুষ যেন সহজে ও হয়রানিমুক্ত পরিবেশে সরকারি ভূমিসেবা পান, তা নিশ্চিত করতেই এসব বিষয় যাচাই করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত, সহজ ও হয়রানিমুক্তভাবে সেবা দেওয়ার নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক। ভূমিসেবা নিতে এসে কোনো নাগরিককে যেন অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তির মুখে পড়তে না হয়, সে বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, শুধু অফিসে বসে প্রতিবেদন কিংবা অভিযোগের ওপর নির্ভর না করে সরাসরি মাঠপর্যায়ে গিয়ে সেবাগ্রহীতাদের অভিজ্ঞতা জানা হলে সরকারি সেবার প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। বিশেষ করে পরিচয় গোপন রেখে সাধারণ মানুষের সঙ্গে একই কাতারে দাঁড়ালে সেবা প্রদানের বাস্তব পরিস্থিতি কাছ থেকে পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি হয়।