প্রকাশ: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ২:৫৮ পিএম (ভিজিট : ১৮)

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ পরিচালনায় অতিরিক্ত কয়েক হাজার কোটি ডলারের অর্থ বরাদ্দ চেয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। তবে ডেমোক্র্যাটরা এ প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। ফলে ইরান অভিযানটি আধুনিক মার্কিন ইতিহাসের সবচেয়ে দলীয় বিভাজনপূর্ণ যুদ্ধে পরিণত হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত গত একশ বছরে এই প্রথম কোনো যুদ্ধের শুরু থেকেই একটি বড় রাজনৈতিক দল একযোগে যুদ্ধের বিরোধিতা করছে। ডেমোক্র্যাটরা অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দে সমর্থন দিচ্ছেন না, সেনা প্রত্যাহারের দাবিতে একযোগে ভোট দিচ্ছেন এবং প্রতিবাদস্বরূপ একটি বিস্তৃত প্রতিরক্ষা নীতিমালাও প্রত্যাখ্যান করছেন। ওই নীতিমালায় যুদ্ধের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কহীন সেনাসদস্যদের বেতন বৃদ্ধির মতো বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। অতীতে যুদ্ধ চলাকালে সেনাবাহিনীর প্রতি সমর্থন না দেওয়ার অভিযোগ এড়াতে ডেমোক্র্যাটরা সাধারণত এমন অবস্থান নিতেন না।
তবে এবার দলটির আইনপ্রণেতারা বলছেন, সাধারণ মার্কিন জনগণ এমনকি অনেক রিপাবলিকান সমর্থকও তাদের অবস্থানের সঙ্গে একমত। তাদের মতে, ইরান যুদ্ধকে ঘিরে রিপাবলিকানদের অবস্থান আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।
অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটদের অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেছেন রিপাবলিকান নেতারা। প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন বলেন, বিশেষ করে অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার উদ্বেগ এবং ইরানে সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য প্রশাসনের অতিরিক্ত প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার জরুরি তহবিলের অনুরোধের প্রেক্ষাপটে পেন্টাগনের অর্থায়ন আটকে দেওয়া ‘লজ্জাজনক’।
ডেমোক্র্যাটদের বিরোধিতার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। দলটি এখন বিদেশে সামরিক সম্পৃক্ততা নিয়ে আগের তুলনায় বেশি সতর্ক। একই সঙ্গে ইরানের প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মিত্র ইসরায়েলের প্রতি আগের মতো সমর্থনও নেই।
এর পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতিও ডেমোক্র্যাটদের গভীর অনাস্থা রয়েছে। তাদের অভিযোগ, ইরান যুদ্ধ পরিচালনায় ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত ও কৌশল নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। ফলে যুদ্ধের অর্থায়নসহ সংশ্লিষ্ট পদক্ষেপে তারা সমর্থন দিতে রাজি নন।