প্রকাশ: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১১:২০ এএম (ভিজিট : ৬৯)

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সমন্বয়ক এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, এক দফা ঘোষণার পর থেকেই সরকার পতনের পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলার পরিকল্পনা শুরু হয়। সে লক্ষ্যেই ২ আগস্ট থেকে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের টিমের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছিলেন তারা।
সম্প্রতি গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আসিফ মাহমুদ বলেন, তাদের মূল লক্ষ্য ছিল সরকার পতনের পর দেশ যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অনিশ্চয়তার মধ্যে না পড়ে। এ বিষয়ে অন্য সমন্বয়কদেরও অবহিত করা হয়েছিল।
তিনি জানান, শুরুতে ড. ইউনূস দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়ে খুব একটা আগ্রহ দেখাননি। তবে ৫ আগস্টের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি, বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ ও হামলা এবং সামরিক শাসনের সম্ভাবনার তথ্য পাওয়ার পর তারা দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, পরে ড. ইউনূসের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হয়। আলোচনায় ড. ইউনূসেরও কিছু উদ্বেগ ছিল। বিশেষ করে, সরকার পরিচালনায় অন্য কোনো শক্তি পেছন থেকে প্রভাব বিস্তার করবে কি না
এ বিষয়ে তিনি জানতে চেয়েছিলেন। তখন সমন্বয়করা তাকে আশ্বস্ত করেন যে, গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রশ্নে তারা আপস করবেন না। এরপরই তার নাম ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত হয়।
প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনে অন্য কোনো প্রস্তাব ছিল কি না এমন প্রশ্নের জবাবে আসিফ মাহমুদ বলেন, বিভিন্ন পর্যায় থেকে বিকল্প নামের প্রস্তাব এসেছিল। সেনাবাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকেও ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পাশাপাশি অধ্যাপক আসিফ নজরুল ও সাবেক কূটনীতিক সালেহউদ্দিন আহমেদের নাম আলোচনায় আসে।
তবে তিনি বলেন, সমন্বয়কদের অবস্থান ছিল স্পষ্ট। তাদের মতে, তৎকালীন রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক বাস্তবতায় ড. ইউনূসের মতো গ্রহণযোগ্য ও আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত একজন ব্যক্তির নেতৃত্বই সবচেয়ে প্রয়োজন ছিল। সেই অবস্থানেই তারা অনড় ছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ আলোচনার পর অন্য পক্ষও তাদের প্রস্তাব মেনে নেয়।