প্রকাশ: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৩:৪৬ পিএম (ভিজিট : ৭৬)

সরকারের সমঝোতা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে দেশজুড়ে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের। কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ২০২৪ সালের ১৮ই জুলাই রাজধানী ঢাকাসহ দেশ ছিলো প্রায় অচল। দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ এবং আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষে সেদিন সাংবাদিকসহ অন্তত ৩১ জন নিহত হন।
২০২৪ এর ১৮ জুলাই। দেশজুড়ে চলছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেদিন ঢাকাসহ দেশে ২২৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়। আন্দোলন দমনে অনির্দিষ্টকালের জন্য রাজধানীতে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ডিএমপি ।
১৮ জুলাই সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি সফল করতে শিক্ষার্থীদের সাথে যোগ দেয় সাধারণ মানুষ। ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালনের সময় রাজধানী ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সাথে সংঘর্ষ হয় আন্দোলনকারীদের। সাংবাদিকসহ নিহত হন ৩১ জন। এরমধ্যে রাজধানী ঢাকায়ই ২৪ জন। ফুসে ওঠে ছাত্রজনতা। রাজধানীর রামপুরায় বিটিভি ভবন এবং মহাখালীতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, ডাটা সেন্টার ও সেতু ভবনে দেয়া হয় আগুন।
পরিস্থিতি বিবেচনায় ১৮ জুলাই জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডাকেন ফ্যাসিষ্ট সরকারে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। সরকার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দেয়। ‘গুলির সঙ্গে কোনো সংলাপ হয় না’ ফেসবুকে এমন স্ট্যাটাস দিয়ে প্রত্যাখান করে শিক্ষার্থীরা।
ছাত্র আন্দোলনের মুখে ১৮ জুলাই সন্ধ্যায় সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা বাতিলের পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিলের শুনানির জন্য নতুন তারিখ দেয় চেম্বার আদালত। অন্যদিকে, ১৯ জুলাই দেশে শাটডাউন কর্মসূচি অব্যাহত রাখা এবং গায়েবানা জানাজার কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।