
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা তার পর থেকেই ভারতে পলাতক জীবন থেকে দেশে ফিরে আসে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মেজর মোজাফফর। সেনাবাহিনীর উচ্চ পর্যায়ের অফিসারদের আবাসিক এলাকাতেই তিনি দীর্ঘ ২৮ বছর বসবাস করেছে।
সেনাবাহিনীর একটি প্রভাবশালী অংশের সাথে যোগাযোগ মাধ্যমে এত বছর তাকে নিরাপদে বসবাসের সুযোগ তৈরি করেছিল। ওয়ান ইলেভেনের অন্যতম কুশীলব সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ হতো মো. মোজাফফর হোসেনের। বিভিন্ন অপারেটরের নম্বর ও অ্যাপে দুজনের কথোপকথনের সূত্র ধরেই শনাক্ত করা হয় ৪৫ বছর ধরে পলাতক মোজাফফরকে।
অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী আটকের পর তার মোবাইল ফোনটি আইডিতে ফরেন্সিকের জন্য পাঠানো হয়। মোবাইল ফোনের ফরেনসিকের তথ্য যাচাই বাছাই করে গোয়েন্দারা সন্ধান পায় বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা মোজাফফরের। মোবাইল ফোনের তথ্য গোয়েন্দা বিশ্লেষণে উঠে আসে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম দণ্ডপ্রাপ্ত আসামী এই মোজাফফর।
চলতি বছরের ২৪ মার্চ মাসুদ গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ফারুকের সঙ্গেও যোগাযোগ হতো মোজাফফরের। গ্রেপ্তার মাসুদের ব্যবহৃত ফোনের ডিজিটাল ফরেনসিক ও তার পিএসের কল রেকর্ড ধরে শনাক্ত করা হয় মোজাফফরকে। মাসুদ উদ্দিনের বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা তদন্ত চলমান আছে। তদন্ত কাজে সহায়তা করছেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও আইটি বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা। তিনি বলেন, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে বিভিন্ন ছদ্মনামে কথা বলতেন মোজাফফর। মাসুদ গ্রেপ্তারের পর তার পিএস ফারুকের সঙ্গেও কথা হতো। একটি বেসরকারি মোবাইল অপারেটরের একাধিক নম্বর থেকে কথা বলতেন মোজাফফর। যে নম্বরগুলো বেনামে রেজিস্টার করা। বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে কল করা হতো। লোকেশন গোপন করার জন্য ব্যবহার করত ভিপিএন।সন্দেহভাজন নম্বরগুলো নিয়ে আরও বিস্তারিত কাজ করতে গিয়ে ‘জন ডো’ বলে একটি নাম পাওয়া যায়।
পরবর্তী আরও বিশ্লেষণ করে মোজাফফরকে ট্রেস করা সম্ভব হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মোজাফফরের মেয়ে একটি বেসরকারি মোবাইল সিম অপারেটরে চাকরি করেন। অভিযোগ উঠেছে, তিনিই বাবাকে নামে-বেনামে রেজিস্ট্রেশন করা নম্বরগুলো দিয়ে সহায়তা করেছেন।
এদিকে মোজাফফর গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে জানা গেছে, ১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমানকে হত্যার পর ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে প্রায় ১৫ বছর আত্মগোপনে ছিলেন। সেখানে তিনি বিপ্লব সরকার ও জয় ব্যানার্জি এই দুই ছদ্মনাম ধারণ করেন। গ্রেপ্তারের পর তার দাবি, এরপর থেকে দেশেই ছিলেন।
গত বুধবার মধ্যরাতে বনানীর একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপি ডিবির একটি দল। এরপর বৃহস্পতিবার পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মোজাফফরকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারের পর ডিবি ও সেনাবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, প্রথম জাতীয় রক্ষীবাহিনীতে (জেআরবি) কমিশন পেয়েছিলেন এবং ১৯৮১ সালে ২৪ পদাতিক ডিভিশনে কর্মরত ছিলেন। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি কলকাতায় আত্মগোপন করেছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে তিনি দেশে ফিরে আসেন।