প্রকাশ: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ৩:৪৮ পিএম (ভিজিট : ৫০)

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আজ থেকে কার্যকর হচ্ছে বহুচর্চিত ‘গুণ্ডা দমন আইন’। জননিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক বলে চিহ্নিত হলে এই আইনের আওতায় বিচার ছাড়াই সর্বোচ্চ এক বছর আটক রাখা যাবে। আইনটি কার্যকর হওয়ার আগে থেকেই তা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে উঠেছে।
সম্প্রতি বিধানসভায় পাস হওয়া ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি (কন্ট্রোল অব অ্যান্টি সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিজ) বিল, ২০২৬ এবং ওয়েস্ট বেঙ্গল মেইনটেন্যান্স অব পাবলিক অর্ডার (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬-কে রাজ্যপালের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছিল। সূত্রের খবর, রাজভবন থেকে সম্মতি মেলার পরই আইনগুলো কার্যকর করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
নতুন আইনে বলা হয়েছে, দাঙ্গা, হিংসাত্মক বিক্ষোভ, সমাজবিরোধী কার্যকলাপ কিংবা জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে পারে এমন অভিযোগে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা নিতে পারবে। প্রয়োজন মনে করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে প্রতিরোধমূলক হেফাজতে রাখা যাবে। এই সময়সীমা সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত হতে পারে।
সরকারি সূত্রের দাবি, রাজ্যের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি রোধ করা এবং সংগঠিত অপরাধমূলক কার্যকলাপ মোকাবিলার লক্ষ্যেই এ আইন আনা হয়েছে। প্রশাসনের মতে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
তবে বিরোধী দলগুলো শুরু থেকেই এ আইনের বিরোধিতা করে আসছে। তাদের অভিযোগ, সমাজবিরোধীদের মোকাবিলার আড়ালে রাজনৈতিক বিরোধীদের কণ্ঠরোধের হাতিয়ার হিসেবে এবং সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে এই আইন ব্যবহার করা হবে। বিরোধীদের আরও দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তির পক্ষে প্রচলিত বিচারপ্রক্রিয়ার সুযোগ সীমিত করা হয়েছে এবং বিষয়টি নাগরিক অধিকারের প্রশ্ন তুলছে।