বুধবার ১ জুলাই ২০২৬ ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩

শিরোনাম: নিম্নমানের ইট-বালুতে হচ্ছে রাস্তার কাজ, এলাকাবাসীর ক্ষোভ (প্রথম পর্ব)   কেপ ভার্দের বিপক্ষে কোন জার্সিতে খেলবে আর্জেন্টিনা?   লজ্জার টেস্ট হারের পর নতুন আশা, টি-টোয়েন্টি দল ঘোষণা বাংলাদেশের   প্রবাসী আয়ে নতুন মাইলফলক, দেশে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্সের রেকর্ড   অ্যাপলের নতুন চমক? ফাঁস হলো আইফোন ১৮ প্রো’র তথ্য   বাংলাদেশ ব্যাংকের দীর্ঘ ১৬ বছরের বোর্ড সদস্যদের নথি তলব দুদকের   আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: রাষ্ট্রপতি   
চিরিরবন্দরে পরকীয়ার অপবাদ দিয়ে শ্বশুর পরিবার কর্তৃক গৃহবধূর গহনা ও টাকা লুট
দিনাজপুরের (ফুলবাড়ী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ৬:৪৫ পিএম   (ভিজিট : ১৮)

মানসিক রোগী স্বামী আতাউর রহমানের পরিবারের লোকজন আতাউর রহমানের সাড়ে ৪ বিঘা জমি আত্মসাৎ এর উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন থেকে ষড়যন্ত্র করে আসছিল।অবশেষে বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র, শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণা সইতে না পেরে বিগত আড়াই বছর পূর্বে বাধ্য হোন ওই হতভাগী স্বামীর ভিটে ছাড়তে।তিনি তার অদম্য মেধাবী দুই সন্তানকে নিয়ে এখন অন্যত্র বসবাস করছেন।

হ্যাঁ বলছি ইয়াসমিন আরার(৩৭)এর জীবন কাহিনী।দিনাজপুরের চিরিরবন্দরের হাটখোলায় আঃ গনির ছেলে আতাউর রহমানের সাথে ১৭ বছর পূর্বে বিয়ে হয়।সেই ঘরে জন্ম নেয় তাসফিয়া সরকার আভা ও ইমতিয়াজ রহমান ইমন।তারা দু'জনেই আইডিয়াল স্কুলে নবম ও ষষ্ঠ শ্রেণীতে অধ্যায়নরত।

ভুক্তভোগী ইয়াসমিন জানান,বিয়ের পর থেকেই জেনে আসছি আমার স্বামী মানসিক রোগী।এরপরও তার সাথে সংসার করতে আমার কোন সমস্যা হয়নি। বিয়ের ৫ বছর ভালোই চলছিল।এরই মধ্যে তারা আমার স্বামীর নামে থাকা সারে ৪ বিঘা জমি আত্মসাৎ এর উদ্দেশ্যে আমার বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লাগে।একটা পর্যায়ে আমার স্বামীর হাটখোলার বাড়ীতে টিকতে না পেরে ফায়ার সার্ভিসের পূর্ব পাশে ৬ শতক জমিতে কয়টি ঘর নির্মাণ করে বিগত আড়াই বছর যাবত দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস করে আসছি।এখানে এসেও তারা আমার পিছু ছাড়ছে না।গত ১৮ই জুন(বৃহস্পতিবার)সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বাজারে যাবার উদ্দেশ্যে বের হলে রাস্তা থেকে আমাকে তারা স্বামীর হাট খোলার বাড়িতে উঠে নিয়ে যায়।সেখানে তারা আমাকে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়ার চেষ্টা করে।স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর না দেয়ায় তারা আমার হাত-পা বেঁধে বেদম মারপিট করে।এখানে তারা আমাকে জিয়া নামে এক ব্যক্তির সাথে জড়িয়ে পরকীয়ার অপবাদ দেয়।রাত্রি অনুমান ৯ টার দিকে জ্ঞান ফিরে এলে দেখি আমার ছেলেকেও তারা উঠে নিয়ে এসেছে।
এরপর রাত্রি ১টার পর আমাকে ও আমার ছেলেকে ভ্যান যোগে আমাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।এই ঘটনা পরের দিন(১৯ জুন) থানায় একটি অভিযোগ জমা দিলেও ২৮ তারিখ পর্যন্ত থানা পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেয়নি।২৮ তারিখ রাত্রে বিষয়টি অফিসার ইনচার্জকে অবগত করা হলে তিনি বিষয়টি তদন্তের জন্য এক অফিসার কে দায়িত্ব দেন।আজ ১ জুলাই এ পর্যন্ত তদন্তের কোন আপডেট আমরা এখনো পাইনি।

এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর মেয়ে আভা জানায়,আমি প্রাইভেট থেকে সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে বাসায় পৌঁছে শুনি মাকে তুলে নিয়ে গেছে দাদু বাড়িতে।আমি দ্রুত দাদু বাড়িতে গিয়ে দেখি মাকে তারা হাত-পা বেঁধে মারপিট করছে।এসময় কোন বাধায় তারা আমার শোনেননি।ওখানে থাকতেই মেসেজ পাই আমাদের বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাঠ হচ্ছে।
পুনরায় আমাদের বাড়িতে অনুমান রাত্রি ৯ টার দিকে এসে লুকিয়ে-লুকিয়ে দেখি ২০ থেকে ২৫ জন পুরুষ-মহিলা আমাদের ঘরে প্রবেশ করে দলিল পত্র,আলমারিতে রাখা ৪ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকা,সাড়ে ৮ ভরি গহনা ও মূল্যবান কাপড়-চোপড় নিয়ে চলে যায়।এ সময় তাদের হাতে লাঠি-সোঠাসহ দেশীয় ধারালো অস্ত্র ছিল।এদের মধ্যে আমি ৩ জনকে চিনতে পারি।তারা হলেন,ফাহিম,শাহরিয়ার ও আপেল।

এরপর সেখান থেকে বের হয়ে দাদু বাড়ী থেকে মাকে উদ্ধার করার উদ্দেশ্যে  থানায় পৌঁছি রাত্রি ১০টা ৪০ মিনিটে।এ সময় ডিউটি অফিসার মাইনুল কে বিস্তারিত ঘটনা বলার পরও তিনি আমার মাকে উদ্ধারে কোন ভূমিকা নেননি।অনেক কাকুতি-মিনতি করেও সেদিন তার মন গলাতে পারিনি।এক পর্যায়ে তিনি আমাকে সাব জানিয়ে দেন, তোমাদের এই বিষয়ে আমরা নাক গলাতে পারি না।কারণ,ওখানে বিএনপি নেতা দুলুভাই বিষয়টি দেখছেন।অবশেষে ব্যর্থ হয়ে রাত্রি ১২টার দিকে থানা থেকে বাড়িতে আসি।

এ সময় আবেগপ্রবণ হয়ে আভা আরো বলেন,আমার বাবা ও বাবার পরিবারের লোকজন আমাদের এত বড় শত্রু যে,আমি পঞ্চম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ করি।সেই আমার মত একজন ছাত্রীকে অষ্টম শ্রেণীতে বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে দেননি আমার জন্মদাতা বাবা।গত রমজান মাসেও আমার পিতা বাড়িতে চোর লেলিয়ে দিয়ে মূল্যবান আসবাবপত্র চুরির পাশাপাশি আমার গুরুত্বপূর্ণ কিছু বই ও নোট চুরি করে নিয়ে গেছেন।এবারও আমার কিছু গুরুত্বপূর্ণ বই ও সম্পূর্ণ নোটগুলি তারা চুরি করে নিয়ে গেছে।এর ফলে আমার পড়ালেখায় চরম ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে।সম্পদ আত্মসাৎ এর পাশাপাশি তাদের আরো একটি উদ্দেশ্য,আমি যেন পড়ালেখা ঠিকমত করতে না পারি।ফলাফল খারাপ করি।পৃথিবীতে কি এরকম কোন দ্বিতীয় পরিবার আছে! আমার জানা নেই।

এদিকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে,এই ঘটনার ভিক্টিম ইয়াসমিনের ভাই ইব্রাহিম বিয়ে করেছিল তার স্বামীর বোন গুলফাম কে।সম্প্রতি  ইব্রাহিম গুলফাম কে তালাক দিলে গুলফাম এর পরিবারও বিষয়টিকে জেদ হিসেবে নেয় যে,তারাও তাদের ভাইকে দিয়ে ইয়াসমিনের আর সংসার করাবে না।যার ফলেই অত্যাচারের মাত্রা মাত্রাতিরিক্ত পর্যায়ে পৌঁছে।

এদিকে গত ২৮ জুন (রোববার)সন্ধ্যায় বিষয়টি অফিসার ইনচার্জ মাহমুদুন নবীকে অবগত করা হলে তিনি তৎক্ষণাৎ মাইনুলকে ফোন দিয়ে বলেন,দুলু সাহেব কি থানার ওসি?বিচার প্রার্থীরা থানায় এলে কেন রাজনৈতিক লিডারদের উদাহরণ দেবেন?এত রাতে একটা অসহায় মেয়ে একাই থানায় আসলো আপনি তাকে পাত্তাই দিলেন না!শেষে তিনি আভাকে আশ্বস্ত করেন বিষয়টি দেখবেন বলে।









  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]