
মানুষের স্বভাব হলো নিজের যা নেই, সেটির জন্য আফসোস করা; অথচ যা আছে, তার জন্য কৃতজ্ঞ হতে ভুলে যাওয়া। ফলে অনেক সময় আমরা এমন একটি জীবন নিয়েও অসন্তুষ্ট থাকি, যা অন্য কারও কাছে কেবল স্বপ্ন। ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে সন্তুষ্টি ও কৃতজ্ঞতা শুধু একটি সুন্দর চরিত্র নয়; বরং এটি আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম মাধ্যম। যে ব্যক্তি আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতের মূল্য উপলব্ধি করে এবং কৃতজ্ঞ থাকে, আল্লাহ তার জন্য আরও কল্যাণের দরজা খুলে দেন।
আজ আপনি কিসে সন্তুষ্ট হতে পারছেন না?
> সম্পদের অভাব?
একবার দরিদ্র মানুষের পাশে বসে দেখুন।
> কাজের চাপ?
একবার যাদের কোনো কাজ নেই, তাদের কষ্ট বোঝার চেষ্টা করুন।
> সন্তান অবাধ্য?
একবার যাদের কোনো সন্তান নেই, তাদের পাশে দাঁড়ান।
> বাবা-মা বেশি বকাবকি করেন?
একবার যাদের বাবা-মা আর বেঁচে নেই, তাদের অনুভূতি উপলব্ধি করুন।
মনে রাখুন—
আপনি যে জীবনটাকে অভিযোগে ভরিয়ে দেন, সেই জীবনটাই হয়তো অন্য কারও বহুদিনের স্বপ্ন।
কুরআনের শিক্ষা
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—
وَإِذْ تَأَذَّنَ رَبُّكُمْ لَئِنْ شَكَرْتُمْ لَأَزِيدَنَّكُمْ ۖ وَلَئِنْ كَفَرْتُمْ إِنَّ عَذَابِي لَشَدِيدٌ
‘আর যখন তোমাদের রব ঘোষণা করলেন— যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের আরও বৃদ্ধি করে দেব। আর যদি অকৃতজ্ঞ হও, তবে নিশ্চয়ই আমার শাস্তি অত্যন্ত কঠিন।’ (সুরা ইবরাহিম: আয়াত ৭)
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন—
فَاذْكُرُونِي أَذْكُرْكُمْ وَاشْكُرُوا لِي وَلَا تَكْفُرُونِ
‘তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমিও তোমাদের স্মরণ করব। আমার প্রতি কৃতজ্ঞ হও এবং অকৃতজ্ঞ হয়ো না।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ১৫২)
হাদিসের শিক্ষা
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
انْظُرُوا إِلَى مَنْ هُوَ أَسْفَلَ مِنْكُمْ، وَلَا تَنْظُرُوا إِلَى مَنْ هُوَ فَوْقَكُمْ، فَهُوَ أَجْدَرُ أَلَّا تَزْدَرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ
‘তোমরা তোমাদের চেয়ে নিম্ন অবস্থার মানুষের দিকে তাকাও; তোমাদের চেয়ে উচ্চ অবস্থার মানুষের দিকে তাকিও না। এতে আল্লাহ তোমাদের যে নেয়ামত দিয়েছেন, তাকে তুচ্ছ মনে করার সম্ভাবনা কম থাকবে।’ (বুখারি ৬৪৯০, মুসলিম ২৯৬৩)
আরও একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
مَنْ لَا يَشْكُرِ النَّاسَ لَا يَشْكُرِ اللَّهَ
‘যে মানুষকে কৃতজ্ঞতা জানায় না, সে আল্লাহর প্রতিও প্রকৃত কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।’ (তিরমিজি ১৯৫৪)
সুখ-শান্তির প্রকৃত রহস্য সম্পদ, পদমর্যাদা বা বাহ্যিক প্রাচুর্যের মধ্যে নয়; বরং আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতের প্রতি সন্তুষ্টি ও কৃতজ্ঞতার মধ্যে নিহিত। তাই অভিযোগের ভাষা ছেড়ে শোকর আদায়ের অভ্যাস গড়ে তুলুন। প্রতিদিন একটু সময় নিয়ে ভাবুন— আল্লাহ আপনাকে কত অগণিত নেয়ামত দান করেছেন। যে হৃদয় কৃতজ্ঞতায় ভরে ওঠে, সেই হৃদয়েই নেমে আসে প্রশান্তি, বরকত ও আল্লাহর বিশেষ রহমত।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে তার অগণিত নেয়ামতের যথাযথ কদর করার এবং সর্বাবস্থায় শোকরগুজার বান্দা হওয়ার তৌফিক দান করুন। আমিন।