
শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম দেশের ক্রিকেটের প্রাণকেন্দ্র। ‘হোম অব ক্রিকেট’ হিসেবে পরিচিত এই ভেন্যুকে প্রতিদিন পরিচ্ছন্ন ও ব্যবহারের উপযোগী রাখতে কাজ করেন একদল পরিচ্ছন্নতাকর্মী।
এতদিন মাসে মাত্র ৮ হাজার টাকা বেতনে কাজ করতেন তারা। এবার তাদের বেতন বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
মিরপুরে কর্মরত ৩৩ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মাসিক বেতন ৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার ফলে কর্মীরা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি পারিশ্রমিক পাবেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিসিবির অডিট কমিটি, সিকিউরিটি কমিটি এবং টেন্ডার অ্যান্ড পারচেজ কমিটির চেয়ারম্যান সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ, ‘আজ আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে মিরপুর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে কর্মরত পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা দিচ্ছি। এটি আমাদের সভাপতি তামিম ইকবালের সেই অঙ্গীকারেরই অংশ, যা আমরা অ্যাডহক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের সময় করেছিলাম।
শুধু ক্রিকেটারদের নয়, মাঠে ক্রিকেটকে সচল রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া পুরো দলটির কল্যাণ নিশ্চিত করাও আমাদের দায়িত্ব।’
বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্টও করেছেন সাঈদ ইব্রাহিম। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, ক্রিকেট বোর্ডের দায়িত্ব কেবল ক্রিকেটার তৈরি করা নয়, ক্রিকেটের সঙ্গে জড়িত প্রতিটি মানুষের মর্যাদা ও জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অংশ হিসেবে আমাদের দায়িত্ব শুধু ক্রিকেটার তৈরি করা নয়, বরং ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রতিটি মানুষের মর্যাদা ও জীবিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করা। ন্যায্য পারিশ্রমিক কোনো বিশেষ সুবিধা নয়; এটি কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা ও অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি। যখন একজন কর্মী তার পরিবারের জন্য আরও নিরাপদ ও সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করতে পারেন, তখন তিনি আমাদের সম্মিলিত লক্ষ্য বাংলাদেশ ক্রিকেটকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথে আরও শক্তিশালী অংশীদারে পরিণত হন।’
বর্তমান বিসিবি নির্বাচনে নির্বাচিত তামিম ইকবাল, সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদসহ কয়েকজন পরিচালক এর আগে বোর্ডের অ্যাডহক কমিটিতেও দায়িত্ব পালন করেছেন। সেখান থেকেই কর্মীদের কল্যাণে কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার আলোচনা শুরু হয়েছিল বলে জানান তিনি, ‘অ্যাডহক কমিটির যাত্রার শুরু থেকে আজ পর্যন্ত আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষায় অটল থেকেছি। সুশাসন, অবকাঠামো উন্নয়ন, খেলোয়াড় গঠন কিংবা কর্মীদের কল্যাণ প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমাদের লক্ষ্য ছিল কথাকে কাজে রূপ দেওয়া। এই বেতন বৃদ্ধি সেই অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন এবং এটি প্রমাণ করে যে বোর্ড ক্রিকেট পরিবারের প্রতিটি সদস্যের অবদানকে মূল্যায়ন করে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘পরিশ্রম ও নিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সকল কর্মীকে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আপনাদের অবদান অত্যন্ত মূল্যবান, এবং ভবিষ্যতেও তা যথাযথভাবে স্বীকৃত হবে।’