বৃহস্পতিবার ১৮ জুন ২০২৬ ৪ আষাঢ় ১৪৩৩

শিরোনাম: বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নেবে প্রস্তাবিত বাজেট: আইনমন্ত্রী   নাম নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই বগুড়ার আলোচিত ৪ ইউপিতে প্রশাসক নিয়োগ   প্রবাসীর চিকিৎসায় সহমর্মিতার হাত বাড়ালেন ছাত্রদল নেতা তারিক   জামায়াত আমিরের সঙ্গে পাকিস্তান হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ, হলো যে আলোচনা   মিরপুর স্টেডিয়ামের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বেতন বাড়াল বিসিবি   নিরাপত্তা ঘেরাটোপ যেন সরকার প্রধানকে জনগণ থেকে দূরে না ঠেলে দেয়: প্রধানমন্ত্রী   এসএসসি ফল প্রকাশের তারিখ ঘোষণা করলেন শিক্ষামন্ত্রী   
রোনালদোকে নিয়ে সমালোচনা, কী বলছে ফুটবল বিশ্লেষণ?
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ১১:০৪ এএম   (ভিজিট : ৫৪)

এক সময় প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে আতঙ্কের নাম ছিলেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। তার গতি, শক্তি, গোল করার ক্ষুধা আর অবিশ্বাস্য ফিনিশিং ক্ষমতা বদলে দিয়েছিল আধুনিক ফুটবলের সংজ্ঞা।

কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ শেষে সেই রোনালদোকে ঘিরেই উঠছে অস্বস্তিকর এক প্রশ্ন, পর্তুগালের জন্য তিনি কি এখন সম্পদ, নাকি বোঝা?

ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে বিশ্বকাপে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র করেছে পর্তুগাল। ম্যাচে বলের দখল, পাসিং কিংবা আক্রমণ সাজানোর ক্ষেত্রে ইউরোপিয়ান দলটির আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। কিন্তু গোলের সামনে গিয়ে তারা ছিল অসহায়। আর সেই ব্যর্থতার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন অধিনায়ক রোনালদো।

৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড পুরো ম্যাচে ২৫ বার বল স্পর্শ করলেও লক্ষ্যভেদী একটি শটও নিতে পারেননি। ম্যাচে তার উপস্থিতি ছিল অনেকটাই নিষ্প্রভ। যে খেলোয়াড় এক সময় সুযোগ তৈরি না হলেও নিজেই ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতেন, তাকে দেখা গেল আক্রমণে প্রায় অদৃশ্য ভূমিকায়।

সাবেক ফরাসি তারকা থিয়েরি অঁরি ম্যাচ বিশ্লেষণে বলেছিলেন, ‘দলের গোল দরকার, তোমার ব্যক্তিগত গোল নয়।

’ কথাটি শুধু রোনালদোর জন্য নয়, যেন পুরো পর্তুগাল দলের বর্তমান বাস্তবতাকেই তুলে ধরে।
পরিসংখ্যানও রোনালদোর পক্ষে কথা বলছে না। ইউরো ও বিশ্বকাপ মিলিয়ে বড় টুর্নামেন্টে টানা ১০ ম্যাচ ধরে গোলশূন্য তিনি। আরো উদ্বেগের বিষয় হলো, সাম্প্রতিক চারটি বড় ম্যাচে তিনি প্রায় পুরো সময় মাঠে থাকলেও পর্তুগাল মাত্র একটি গোল পেয়েছে।

বয়সের সঙ্গে সঙ্গে রোনালদোর খেলায় পরিবর্তন এসেছে।

আগের মতো ড্রিবলিং, গতি কিংবা রক্ষণভাগ ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা আর নেই। সময়ের সঙ্গে তিনি হয়ে উঠেছেন বক্স-কেন্দ্রিক স্ট্রাইকার। কিন্তু সুযোগ না পেলে কিংবা ছন্দে না থাকলে সে জায়গায়ও দলকে খুব বেশি কিছু দিতে পারছেন না তিনি।
অন্যদিকে পর্তুগালের মাঝমাঠে ব্রুনো ফার্নান্দেস, ভিতিনিয়া ও বার্নার্দো সিলভার মতো সৃজনশীল ফুটবলার রয়েছেন। তারা সুযোগ তৈরি করছেন, কিন্তু সেই সুযোগকে গোলে রূপ দেওয়ার মানুষটিই যেন আগের ধার হারিয়ে ফেলেছেন।

তবে সব সমালোচনার মাঝেও রোনালদোর গুরুত্ব অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তিনি এখনো দলের নেতা, অনুপ্রেরণার উৎস এবং ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। তার অভিজ্ঞতা ও উপস্থিতি তরুণদের জন্য বড় শক্তি।

পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেসও তাই আস্থা হারাননি। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘যখন গোল প্রয়োজন, তখন ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়ার কোনো মানে হয় না।’

বিশ্বকাপ এখনো অনেক বাকি। একটি ম্যাচ দিয়েই রোনালদোর গল্প শেষ হয়ে যায় না। তবে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচটি নতুন করে মনে করিয়ে দিয়েছে, সময় কারও জন্য অপেক্ষা করে না। এখন দেখার বিষয়, সমালোচনার জবাব মাঠে দিতে পারেন কি না পর্তুগালের মহাতারকা। নাকি বিশ্বকাপের শেষ অধ্যায়ে এসে তিনি সত্যিই নিজের কিংবদন্তি ছায়ার সঙ্গে লড়াই করছেন।









  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]