মালয়েশিয়ায় কর্মরত অবস্থায় নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয়ে দেশে ফিরে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাধীন থাকা এক প্রবাসী শ্রমিকের পাশে দাঁড়িয়েছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ছাত্রদলের সাবেক নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম তারিক। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ডা. সাইফুল আলম বাদশাহ।
জানা গেছে, জীবিকার তাগিদে মালয়েশিয়ায় নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন ওই প্রবাসী। কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকালে একটি নির্মাণাধীন ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে নিচে পড়ে গিয়ে তিনি গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনায় তার শরীরের বিভিন্ন অংশে মারাত্মক জখম হয়। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হলেও শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পরবর্তীতে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
দেশে ফিরে প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের বিশেষায়িত ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। গত প্রায় পাঁচ মাস ধরে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দীর্ঘদিনের চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে গিয়ে পরিবারটি আর্থিক সংকটে পড়ে।
আহত প্রবাসীর অসুস্থতার খবর জানতে পেরে হাসপাতালে ছুটে যান তরিকুল ইসলাম তারিক ও ডা. সাইফুল আলম বাদশাহ। তারা রোগীর শয্যাপাশে গিয়ে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করে রোগীর বর্তমান অবস্থা, চিকিৎসার অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ চিকিৎসা পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেন। এ সময় ডা. সাইফুল আলম বাদশাহ রোগীর চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথিপত্র ও প্রেসক্রিপশন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন।
পরে চলমান চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে আহত প্রবাসীর হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেন তরিকুল ইসলাম তারিক। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন তিনি।
এ সময় তরিকুল ইসলাম তারিক বলেন, “প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা দেশের উন্নয়নকে এগিয়ে নিচ্ছে। সেই প্রবাসীদের কেউ দুর্ঘটনা বা সংকটে পড়লে তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। আহত এই প্রবাসী ভাইয়ের দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা কামনা করছি। মানুষের দুঃসময়ে পাশে থাকা শুধু সামাজিক দায়িত্ব নয়, এটি মানবিকতারও দাবি। আমরা সবসময় অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করি এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখব।”
তিনি আরও বলেন, “মানুষের সেবাই সবচেয়ে বড় ইবাদত। সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান, তাহলে অনেক কষ্ট লাঘব করা সম্ভব হবে। আমরা একটি মানবিক, সহমর্মিতাপূর্ণ ও কল্যাণমুখী সমাজ গঠনের প্রত্যাশা করি।”
আহত প্রবাসী ও তার পরিবারের সদস্যরা এ সহযোগিতার জন্য তরিকুল ইসলাম তারিক এবং ডা. সাইফুল আলম বাদশাহর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছিল। এ সহায়তা তাদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি এনে দিয়েছে।
এদিকে, স্থানীয়দের মতে, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেয় এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সংস্কৃতিকে আরও উৎসাহিত করে। তারা সমাজের বিত্তবান ও মানবিক ব্যক্তিদেরও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।