রবিবার ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৫ মাঘ ১৪৩২

শিরোনাম: মাতৃত্বকালীন সময়ে বেতনসহ ছয় মাসের ছুটি দেবে বিএনপি   আজ থেকে হাজার টাকার বেশি পাঠানো যাবে না বিকাশ-নগদে   বিএনপি সবসময় বিশ্বাস করে জনগণই সব ক্ষমতার উৎস: তারেক রহমান   ৪৬তম বিসিএসের ফল প্রকাশ, ১৪৫৭ জনকে নিয়োগের সুপারিশ   চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভোটের অঙ্ক: ‘নীরব ভোট’ই কি তিন আসনের ভাগ্য নির্ধারক?   কুড়িগ্রাম ১ আসনে জামায়াত প্রার্থী অধ‍্যাপক আনোয়ারুল ইসলামের ইশতেহার ঘোষনা   গণভোটের মার্কা কী, ভোট দেই মার্কা দেখে? প্রশ্ন চা শ্রমিকদের   
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভোটের অঙ্ক: ‘নীরব ভোট’ই কি তিন আসনের ভাগ্য নির্ধারক?
মোঃ সাজেদুল হক সাজু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৪৮ পিএম আপডেট: ০৮.০২.২০২৬ ৭:৫০ PM

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ততই চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ভোটের উত্তাপ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। জেলার প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শহরের কেন্দ্র পর্যন্ত, চায়ের দোকান, হাটবাজার, বাসস্ট্যান্ড কিংবা অলিগলির আড্ডা সবখানেই আলোচনার মূল বিষয় একটাই: ভোট। এই হিসাব, নিকাশেই মুখর সাধারণ মানুষ।

সকালের চায়ের কাপে যেমন উঠে আসছে নির্বাচনী সমীকরণ, তেমনি সন্ধ্যার আড্ডায় চলছে ভোটের অঙ্ক কষা। কেউ অতীতের ফলাফল টানছেন, কেউ বলছেন বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার কথা, আবার কেউ ‘নীরব ভোট’ কোন দিকে যাবে, সেই অনিশ্চয়তা নিয়ে আলোচনা করছেন। কে জিতবে আর কে হারবে, তার চেয়েও বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে, কার ভোট শেষ মুহূর্তে কার ঝুলিতে যাবে। এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন ব্যস্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জের রাজপথ থেকে গ্রামবাংলা।

তবে এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা হয়ে উঠেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভোটারদের ভূমিকা। দলটির কোনো প্রার্থী না থাকলেও বিপুল ভোটব্যাংকই জেলার তিনটি আসনের ফল নির্ধারণে ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই ভোট টানতে বিএনপি ও জামায়াত, দুই পক্ষই প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য প্রচেষ্টায় ব্যস্ত। মাঠপর্যায়ে ধর্মপ্রাণ ভোটারদের জন্য আলাদা বার্তা, নানা প্রতিশ্রুতি ও রাজনৈতিক সমঝোতার ইঙ্গিত মিলছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হারুনুর রশীদ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের ঘটনায় কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। গত ১০ জানুয়ারি রাতে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ এখন ভোট করছে না, তাদের কোনো প্রতীক নেই। তারা কাকে ভোট দেবে সেটা তাদের ব্যাপার। কিন্তু আমাকে ভোট দেবে এমন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করলে আমি জনসাধারণকে নিয়ে থানা ঘেরাও করব।

অন্যদিকে একই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য লতিফুর রহমান প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের দলবদলের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আগামী দিনের বাংলাদেশে পরিবর্তন আসছে। আওয়ামী লীগ থেকে জামায়াতে এলে সব দায়দায়িত্ব আমরা নেব।

এই প্রকাশ্য বক্তব্যগুলো নির্বাচনী মাঠে উত্তেজনা বাড়ালেও আওয়ামী লীগের ভোট কোন দিকে যাবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জজকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সাইফুল ইসলাম রেজা বলেন, গত ১৬ বছরে ভোট নিয়ে মানুষের আগ্রহ কম ছিল। অনেকেই মনে করতেন ফল আগেই নির্ধারিত। এবার মানুষ বিশ্বাস করছে নির্বাচনের মাধ্যমে পরিবর্তন সম্ভব। এই বিশ্বাসই ভোটের মাঠে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

নির্বাচনের আগে জেলা বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলও আলোচনায় এসেছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনকে ঘিরে জেলা বিএনপি তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। তবে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম জাকারিয়া বলেন, আমরা তারেক রহমান গঠিত কমিটি। প্রার্থী দেখে নয়, দলের নির্দেশনায় আমরা ধানের শীষের পক্ষে কাজ করছি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ—৩ আসনের জামায়াত প্রার্থী নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, মানুষ চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও মাদক থেকে মুক্তি চায়। আমরা পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আর জনগণ সেটাতেই আস্থা রাখছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ–২: 
ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার স্পষ্ট ইঙ্গিত, নাচোল, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট উপজেলা নিয়ে গঠিত চাঁপাইনবাবগঞ্জ–২ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক তৎপরতা ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছে। গণঅভ্যুত্থান–পরবর্তী পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই আসনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় পার্টির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি ত্রিমুখী লড়াইয়ের ইঙ্গিত মিলছে।

এই আসন দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি। ২০১৮ সালের বিতর্কিত নির্বাচনেও বিএনপির মো. আমিনুল ইসলাম বিজয়ী হন। এবারও তাকেই মনোনয়ন দিয়েছে দল। দলীয় সূত্র জানায়, মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকলেও বড় ধরনের বিভক্তি তৈরি হয়নি। আমিনুল ইসলাম বলেন, নির্বাচিত হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিখাতে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

জাতীয় পার্টি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ফিনল্যান্ড প্রবাসী ও গোমস্তাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান খুরশিদ আলম বাচ্চু। আগের নির্বাচনগুলোতে উল্লেখযোগ্য ভোট পাওয়ায় তিনি শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত। অন্যদিকে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ড. মিজানুর রহমান বলছেন, ন্যায়বিচার ও সুশাসনের পক্ষে ভোটাররা ঐক্যবদ্ধ হচ্ছেন।

কৃষিপ্রধান এই আসনে সার সংকট, ভূগর্ভস্থ পানির সমস্যা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি, রহনপুর রেলস্টেশন উন্নয়ন, এসবই ভোটারদের প্রধান ইস্যু।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক মো. শাহজাহান মিয়া দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ এবং চারবারের সংসদ সদস্য। কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকায় তিনি স্বস্তিতে রয়েছেন।

অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থী ড. মোহাম্মদ কেরামত আলী সংগঠনের শক্তিকে পুঁজি করে জোরালো প্রচারণা চালাচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই বিপ্লব–পরবর্তী বাস্তবতায় জামায়াত এবার আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে সংগঠিত।

এই আসনের ভোটারদের প্রধান সমস্যা,পদ্মা নদীর ভাঙন, যোগাযোগব্যবস্থার দুরবস্থা, কর্মসংস্থানের অভাব ও স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা।

জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন মাসুদ জানান, নির্বাচনি পরিবেশ ভালো রয়েছে। যৌথ বাহিনী টহল দিচ্ছে। ১১ জন ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে রয়েছেন। জেলার ৫১৫টি ভোটকেন্দ্র সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। সেনাবাহিনী ও আনসার সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন।

সব মিলিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে এবারের নির্বাচন শুধু দলীয় প্রতিযোগিতা নয়; এটি ‘নীরব ভোট’, রাজনৈতিক সমীকরণ ও জনগণের প্রত্যাশার বড় পরীক্ষা। শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের ভোট কোন দিকে যাবে, সেই উত্তরই নির্ধারণ করবে জেলার তিনটি আসনের ভাগ্য।



« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: vorerpata24@gmail.com বার্তা ইমেইল:news@dailyvorerpata.com বিজ্ঞাপন ইমেইল:vpgmad@gmail.com