প্রকাশ: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৩৬ পিএম

বাংলাদেশের চায়ের রাজধানী হিসেবে খ্যাত মৌলভীবাজার জেলা। এ জেলায় রয়েছে ৯২টি চা বাগান, যেখানে কাজ করেন প্রায় পৌনে তিন লাখ চা শ্রমিক। যার অধিকাংশ নারী। ভোট ঘনিয়ে আসায় আবারও কদর বেড়েছে অবহেলিত এই মানুষদের। কেননা ভোটে শ্রমিকদের বড় একটি অংশ এই চা শ্রমিক।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকার আয়োজন করেছে গণভোটেরও। ভোটের আর বাকি মাত্র ৪ দিন। ভোট ঘনিয়ে আসায় প্রচারণা, গণসংযোগে সরগরম হয়ে উঠেছে চা বাগান অধ্যুষিত মৌলভীবাজার জেলার ৪টি সংসদীয় আসন। পাশাপাশি সরকারও ইতিমধ্যে গণভোট সম্পর্কে জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরের মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
সরকারি দপ্তর কিংবা রাজপথ সবখানেই বড় বিলবোর্ডের মাধ্যমে গণভোটের বিষয়বস্তু প্রচারিত হচ্ছে, তারপরেও চা-বাগানের সাধারণ ভোটারদের বড় একটি অংশ গণভোট বিষয়ে রয়ে গেছেন সম্পূর্ণ অন্ধকারে।
গণভোটে - ‘হ্যাঁ’নাকি ‘না’ এর পক্ষে চা শ্রমিক, সাধারণ দিনমজুররা, তা জানতে চাইলে উল্টো তারাই প্রশ্ন রাখেন গণভোটের মার্কা কী? তারা বলেন, আমরা তো ভোট দেই মার্কা দেখে। কিন্তু গণভোটের তো কোনো মার্কা নেই, প্রার্থী নেই? কেউ আসেওনি আমাদের কাছে, তাহলে আমরা কাকে ভোট দেব?
দশকের পর দশক ধরে এ জেলার প্রান্তিক চা-শ্রমিকরা বিচ্ছিন্ন জীবনযাপন আর শিক্ষার অভাবে জাতীয় কিংবা আন্তর্জাতিক অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয়ে এখনও রয়ে গেছেন অজ্ঞ, তাদের জীবন মূলত বাগানকেন্দ্রিক। কম মজুরি এবং মৌলিক অধিকার বঞ্চনার ঘেরাটোপে তারা সীমাবদ্ধ, যা দেশে সচেতনতা তৈরিতে অনেক বাধা সৃষ্টি করে।
নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাত্রা। এবার চা শ্রমিকদের পাশাপাশি জয় পরাজয়ে আরেক নিয়ামক শক্তি হয়ে উঠেছেন জেলার প্রবাসী ভোটাররাও। তাই গণভোটের জয় পরাজয়ে তারা কতটা নির্ণায়ক ভূমিকা রাখতে পারলেন তা দেখতে অপেক্ষা করতে হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণ পর্যন্ত।