প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৭:৫৯ পিএম (ভিজিট : ১৯৪৮)

বাণিজ্যিকভাবে পত্নীতলায় গড়ে উঠেছে কাটিমন জাতের আমের বাগান। এখন গাছে গাছে দুলছে আম, ছেয়ে গেছে বাগান। এই আমের ব্যাপক চাহিদা ও দাম রয়েছে বাজারে। গত বছরের প্রথম দিকে উপজেলার তালহা এগ্রো ফার্ম-এ লাভজনক কাটিমন আমের বাগান গড়ে উঠেছে।
বারোমাসি আমের মধ্যে কাটিমন ও বারি-১১ আম অন্যতম। কারণ এর ফলন খুব বেশি। এ আমের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে একসঙ্গে গাছে গুটি ও মুকুল ধরে। একেকটি থোকায় একাধিক আম ধরে। ক্ষেত্র বিশেষে এ জাতের আমের দেড় বছরের গাছে থোকায় ৪/৫ টি করেও আম দেখা যায়।
আমচাষী জাকির হোসেন (মিলন) বলেন, তিনি গত বছরের প্রথম দিকে উপ-সহকারী কৃষি অফিসার আকবরের মাধ্যমে কাটিমন জাতের আম গাছের চারা সংগ্রহ করেন। এবং কাটিমন চারা আনার সময় এটির ফলন হবে কিনা সেটি নিয়েও সংশয়ে ছিলেন জাকির হোসেন। লাগানো কিছুদিন পর থেকেই গাছে মুকুল আসতে শুরু করে তারপর ৩/৪ বার মুকুল ভেঙে দেয়। গাছে যখন ৫/৬ বার মুকুল আসে তখন গাছে আম নিতে শুরু করে। এতে গাছের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না এবং ফলনও বেশি পায়।
জাকির হোসেন (মিলন) আরও জানান, গাছগুলোর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে প্রতিনিয়ত মুকুল আসে। আমি সামনে বছরে-এ গাছগুলো থেকে চারা তৈরি করে বিক্রি করব। থোকায় আম অনেক ধরে, ভেতর আঁশ নেই, খেতেও খুব সুস্বাদু এবং মিষ্টি। এর একেকটির ওজন হয় ২৫০ থেকে ৫৫০ গ্রাম। আমের চামড়া খুব পাতলা হলেও সেটিও অনেক মিষ্টি। আম পরিপক্ক হয়ে হলুদ রঙ হলে খাওয়ার উপযোগী হয়ে ওঠে। আমগুলো পরিপক্ক হতে সাধরত দুই থেকে আড়াই মাস সময় লাগে। ভোক্তাদের সুবিধার্থে বারোমাসি এ জাতের আম এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
চাষীরা বলছেন, এই জাতের আম সারা বছর উৎপাদন হবার ফলে এর চাহিদা বেশি অপর দিকে আমের বাজার মূল্য বেশ সন্তোষজনক। প্রতিমণ কার্টিমন জাতের আম বিক্রয় হচ্ছে সাড়ে ৯ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত যা ২৫০-৩শ’ টাকা কেজি। যার ফলে কাটিমন আম চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন অনেকে।
উপ-সহকারী কৃষি অফিসার জানায়, এ জাতের গাছগুলোতে প্রায় প্রতি মাসেই মুকুলের দেখা মেলে। বাজারে মৌসুমের সময় যে সমস্ত জাতের আম পাওয়া যায়, সেগুলো স্বাদের দিক থেকে অনন্য। কিন্তু একটা নির্দিষ্ট সময়ে এ আমগুলো পাওয়া যায়। একটি মুকুল ভেঙে ফেললে সেটি আবার হয়।
রোগ বালাই সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই প্রকল্পটি পরিদর্শন করে বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দিচ্ছি। রোগ বালাই নাই বললেই চলে। তবে পানি সেচের ব্যপারে সর্তক থাকতে হবে কারণ পানি পেলে গাছে মুকুল আসবে না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রকাশ চন্দ্র সরকার বলেন, এই উপজেলায় প্রাায় ১৫ হেক্টর জমিতে চাষ হচ্ছে কার্টিমন জাতের আম। আড়াই তিন বছর আগে এই জাতের আম চাষ শুরু হয়েছে।
চাষিরা এ জাতের আম চাষ করলে ভালো ফলাফল পাবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ জাতের আম চাষে কেউ আগ্রহ প্রকাশ করলে চাষিদের সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
ভোরের পাতা/কে