প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩০ এএম (ভিজিট : ১২৯)

সংগৃহীত ছবি
জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণ ও আন্তর্জাতিক রুট বাড়ানোর লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে আরও ১১টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন স্থানীয় সময় বুধবার নিউইয়র্কের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর আধুনিকায়ন এবং নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই নতুন উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বোয়িংয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নতুন অর্ডারের মধ্যে রয়েছে পাঁচটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার এবং ছয়টি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স উড়োজাহাজ। এর আগে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বিমান ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছিল। নতুন ১১টি যুক্ত হওয়ায় বোয়িংয়ের কাছ থেকে বিমানের মোট পরিকল্পিত উড়োজাহাজ ক্রয়ের সংখ্যা দাঁড়াল ২৫টি।
এপ্রিলের ৩৭০ কোটি মার্কিন ডলারের চুক্তিতে আটটি ৭৮৭-১০, দুটি ৭৮৭-৯ এবং চারটি ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ অন্তর্ভুক্ত ছিল। নতুন ১১টি উড়োজাহাজের সুনির্দিষ্ট মূল্য, অর্থায়ন কাঠামো ও সরবরাহের সময়সূচি সম্পর্কে বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চেয়ারম্যান রুমি এ হোসাইন বলেন, নতুন চুক্তিটি বিমানের বহর নবায়ন ও নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যাত্রী, প্রবাসী বাংলাদেশি, ব্যবসা ও পর্যটনের প্রয়োজন বিবেচনায় আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সক্ষমতা বাড়াতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশের এভিয়েশন খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং নতুন নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। সেই চাহিদা পূরণেই নতুন উড়োজাহাজ প্রয়োজন। তিনি জানান, ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী এয়ারবাসের সঙ্গেও আলোচনা করা হতে পারে।
বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। বোয়িংয়ের ১৪টি আগের অর্ডারের সঙ্গে নতুন ১১টি যুক্ত হলে বিমানের পরিকল্পিত বোয়িং বহর সম্প্রসারণ দাঁড়াবে ২৫টি উড়োজাহাজে। পাশাপাশি আরও ১০টি এয়ারবাস উড়োজাহাজ কেনার প্রস্তাব নিয়েও কাজ চলছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর সফরের মধ্যেই এ চুক্তি সম্পন্ন হওয়ায় বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক ও বিমান চলাচল খাতে সহযোগিতার বিষয়টিও নতুন মাত্রা পেল।