
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট নিরসন, ‘ভুতুড়ে’ বিদ্যুৎ বিল প্রত্যাহার, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে ১০ দফা দাবিতে রাজধানীতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে ১১ দলীয় ঐক্য।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর পল্টন জিরো পয়েন্টে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচি থেকে আগামী সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ধারাবাহিক লং মার্চ, রেলযাত্রা ও মহাসমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়।
বেলা সাড়ে ১১টা থেকে প্রায় পৌনে ১টা পর্যন্ত পল্টন জিরো পয়েন্টে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন জোটের নেতাকর্মীরা। পরে পদযাত্রা করে সচিবালয়ের সামনে গেলে ১ নম্বর গেটের কাছে পুলিশ তাদের আটকে দেয়। দুপুর ২টার দিকে কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করে ফিরে যান নেতাকর্মীরা।
সেখানে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেন, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ১০ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, ‘এই আন্দোলন কাউকে অসম্মান করার জন্য নয়। জনগণের ন্যায্য দাবি সরকারের কাছে তুলে দিতেই আমরা এসেছি।’
কর্মসূচি থেকে তিনি ধারাবাহিক আন্দোলনের ঘোষণা দেন। ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লং মার্চ, ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা-রংপুর লং মার্চ ও পথসভা, ১০ অক্টোবর ঢাকা-খুলনা হয়ে যশোর-কুষ্টিয়া পর্যন্ত লং মার্চ, ২৪ অক্টোবর ঢাকা-সিলেট রেলযাত্রা এবং ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ।
শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের ন্যায্য দাবি আদায়ে এসব কর্মসূচি পালিত হবে। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অতীতের মতো লং মার্চে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করা হলে তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।
সমাবেশ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সভাপতি ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি অলি আহমেদসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।
সমাবেশে জোট নেতারা অভিযোগ করেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট কৃত্রিমভাবে দীর্ঘায়িত করা হচ্ছে এবং এর অজুহাতে সরকার নতুন করে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি বলেন, জনগণের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা হলে তার বিরুদ্ধে আন্দোলন আরও বেগবান হবে।
তারা বলেন, লং মার্চ ও পথসভার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জনমত সংগঠিত করা হবে এবং আগামী ১৪ নভেম্বরের মহাসমাবেশে সারা দেশ থেকে মানুষ ঢাকায় সমবেত হবে।
১১ দলীয় ঐক্যের ১০ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, গত তিন মাসে আদায় করা অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের গণশুনানি, দায়ীদের শাস্তি ও ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ দেয়া, প্রিপেইড ও পোস্টপেইড মিটারের ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া ও অন্যান্য অতিরিক্ত চার্জ বাতিল, বিদ্যুৎ বিলিং ব্যবস্থায় শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
এ ছাড়া গ্যাস সরবরাহ না থাকলে বিল আদায় বন্ধ, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি ও নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান, মহেশখালী এলএনজি টার্মিনালের ব্যর্থতার তদন্ত ও বিকল্প জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি গ্যাসের সিস্টেম লস, চুরি ও অপচয় বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা, শিল্প, ব্যবসা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এবং জ্বালানি খাতে দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি।