প্রকাশ: রোববার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ১১:০৬ এএম (ভিজিট : ৫৫)

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা এবং সুইজারল্যান্ডের মধ্যকার লড়াইটি ছিল চরম উত্তেজনাপূর্ণ। অতিরিক্ত সময়েতর রোমাঞ্চে ম্যাচটি ৩-১ গোলে জিতে নেয় আর্জেন্টিনা।
তবে মাঠের কৌশলগত লড়াই ছাপিয়ে সবার নজর কেড়েছে এমন একটি মুহূর্ত, যা মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। প্রথমার্ধ চলাকালীন পর্তুগিজ রেফারি হোয়াও পেদ্রো পিনহেইরো তাকে যেভাবে সম্বোধন করেছিলেন, তাতে অসন্তুষ্ট হয়ে তার মুখোমুখি হন লিওনেল মেসি।
আলবিসেলেস্তেদের অধিনায়ক হিসেবে আর্জেন্টাইন এই মহাতারকা নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন এবং রেফারির কাছ থেকে সম্মানজনক আচরণ দাবি করেন। একটি ‘সেট-পিস’ পরিস্থিতির সময় রেফারির কথা বলার ধরণ যে তার পছন্দ হয়নি, তা তিনি সোজাসুজি বুঝিয়ে দেন।
সুইজারল্যান্ডের একটি ফ্রি-কিকের ঠিক আগ মুহূর্তে এই ঘটনা ঘটে। মেসি তখন আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের দেয়ালে দাঁড়িয়েছিলেন।
রেফারি পিনহেইরো তখন তাকে নির্ধারিত দূরত্বে পিছিয়ে যেতে নির্দেশ দেন। তবে রেফারির কথা বলার সুর এবং অঙ্গভঙ্গি রোজারিওতে জন্ম নেওয়া এই জাদুকরকে বিরক্ত করে তোলে, যার প্রেক্ষিতে তিনি তৎক্ষণাৎ জবাব দেন, ‘আমার সাথে ঠিকভাবে কথা বলুন।’
উত্তেজনা সেখানেই শেষ হয়ে যায়নি। ফ্রি-কিক নেওয়া হওয়ার পর টেলিভিশন ক্যামেরায় আবারও দুজনের মধ্যে কথা বিনিময় হতে দেখা যায়। মেসি পুনরায় রেফারির কাছে এগিয়ে যান এবং ঠোঁট পড়ার মাধ্যমে তার বার্তাটি স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল। মেসি বলছিলেন, ‘আমার সাথে ঠিকভাবে কথা বলুন। আমাকে অসম্মান করবেন না। আমি আপনার সাথে সম্মানের সাথে কথা বলেছি, আপনিও আমার সাথে সেভাবেই কথা বলুন।’
কড়া ভাষায় কথা বললেও আর্জেন্টিনার অধিনায়ক ছিলেন পুরোপুরি শান্ত। তিনি হাত দুটো পেছনে রেখে অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে নিজের কথাগুলো বলছিলেন। এই ঘটনার জন্য তাকে কোনো কার্ড বা শাস্তির মুখে পড়তে হয়নি, তবে সেমিফাইনালে ওঠার এই স্নায়ুচাপের ম্যাচে মুহূর্তটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
৩৮ বছর বয়সী পর্তুগিজ রেফারি জোয়াও পেদ্রো পিনহেইরো ইউরোপের অন্যতম উদীয়মান রেফারি হিসেবে পরিচিত। ২০১৫ সালে পর্তুগালের শীর্ষ লিগে তার অভিষেক হয় এবং মাত্র এক বছর পরই তিনি ফিফার আন্তর্জাতিক ব্যাজ লাভ করেন। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ, ইউরোপা লিগ এবং ২০২৫ উয়েফা সুপার কাপের মতো বড় আসরে ম্যাচ পরিচালনা করে তিনি নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন। সেই অভিজ্ঞতার কারণেই ২০২৬ বিশ্বকাপের বিশ্বমঞ্চে ম্যাচ পরিচালনার জন্য তাকে মনোনীত করা হয়েছে।