
যুদ্ধবিরতি ভেঙে ফের হামলার মধ্যেই ওমানের রাজধানী মাস্কাটে গেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। শনিবার তিনি মাস্কাটে পৌঁছান। ওমানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা করবেন আরাঘচি।
মেহের নিউজ এজেন্সির তথ্য মতে, শনিবার মাস্কাট বিমানবন্দরে পৌঁছালে ওমানের কর্মকর্তারা তাকে স্বাগত জানান।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, এই সফরটি ইরান ও ওমানের চলমান দ্বিপক্ষীয় পরামর্শের ধারাবাহিকতা। আলোচনায় সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতির পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।
নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ইসলামাবাদে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (MoU) ৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে মতবিনিময় করবেন আরাঘচি ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে উত্তেজনা বেড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের উপকূলে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা এবং এর জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর পাল্টা অভিযান। এই প্রেক্ষাপটে প্রণালীর ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার প্রচেষ্টা চলছে।
‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধাপরাধ করেছে’
ইরানের বিরুদ্ধে চালানো সামরিক হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধাপরাধ করেছে বলে অভিযোগ এনে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং ক্ষতিপূরণ আদায়ের দৃঢ় অঙ্গীকার করেছেন দেশটির বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেইন মোহসেন এজেই।
শনিবার ইরানের সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ জানিয়েছে, মোহসেন এজেই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও জায়োনিস্ট শাসকগোষ্ঠী আমাদের দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত করেছে। এসব অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা এবং দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনার জন্য আমরা পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী তাদের কাছ থেকে যথাযথ ক্ষতিপূরণও আদায় করা হবে।
সম্প্রতি তিনি অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক আইনজীবী এবং বিভিন্ন দেশের প্রখ্যাত আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অভিযোগগুলো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেন।
মোহসেন এজেই আরও বলেন, প্রায় আট দশক ধরে ফিলিস্তিন ও লেবাননে ইসরায়েল হত্যা, গণহত্যা ও শিশু হত্যাসহ নানা ধরনের অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ইরান সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই চালিয়ে যাবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, জায়োনিস্টদের বিরুদ্ধে যেখানেই প্রতিরোধের পতাকা উঠবে, সেখানেই ইরান সহযোগিতা করতে কোনো দ্বিধা করবে না।
একইসঙ্গে ইরানি জনগণের ওপর যে ক্ষয়ক্ষতি চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, তার জন্যও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান।