
পৃথিবীতে বাংলাদেশই একমাত্র দেশ, যার প্রধানমন্ত্রীর কোনো বাসভবন নেই বলে জানিয়েছেন চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে বাজেট অধিবেশন নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
জুলাই স্মৃতি জাদুঘর কবে খুলে দেওয়া হবে, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, জাদুঘরের কাজ চলছে। জাদুঘর একদিনে শেষ হওয়ার বিষয় নয়। জাদুঘরের একটা জন্ম হয়, মৃত্যু হয় না। জুলাই স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য যা দরকার, তা ধীরে ধীরে জাদুঘরে যুক্ত হবে। জাদুঘর ইতিহাসের অংশ। মানুষ সেখানে যাবে শেখার জন্য, জানার জন্য।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, রোনালদো আর মেসি ফুটবল খেলায় আছে, বিশ্বকাপে আছে। বাংলাদেশের পার্লামেন্টে কোনো খেলা নেই, গেমও নেই। কেউ এ ধরনের মন্তব্য করে থাকলে সেটি তার ব্যক্তিগত মত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, সরকার এমন বিরোধী দল চায়, যারা যৌক্তিক বিষয়ে সহযোগিতা করবে, আবার প্রয়োজন হলে সরকারের সমালোচনাও করবে। যাতে আমি সেটা সংশোধন করতে পারি। গণতান্ত্রিক দেশে বিরোধী দলের কাজ সবসময় সরকারের বিরোধিতা করা নয়। কারণ বিরোধী দলও এক দিন সরকারে যেতে পারে। আমরা একটা স্মুথ গণতন্ত্র চাই। সে কারণে যেটা সহযোগিতা করা দরকার, সেটা সহযোগিতা করবে; যেটা সমালোচনা করা দরকার, সেটা সমালোচনা করবে।
চিফ হুইপ দাবি করেন, বাজেট অধিবেশনে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে যে পরিবেশ দেখা গেছে, সেটি ‘সহযোগিতার’ পরিবেশ। এবার বিরোধী দল নির্ধারিত সময়ের চেয়েও বেশি সময় বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। বিরোধী দলের জন্য মোট সময়ের ২৬ শতাংশ বরাদ্দ থাকলেও তারা প্রায় ৩১ শতাংশ সময় কথা বলেছেন। নূরুল ইসলাম মনি বলেন, সাধারণত বাজেট অধিবেশনে নির্দিষ্ট সময়ের পর মঞ্জুরি দাবি পাসের জন্য সরকারি দল থেকে গিলোটিন প্রস্তাব আসে। তবে এবার বিরোধীদলীয় নেতা নিজেই আলোচনা শেষে গিলোটিনে যাওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের সংসদের ইতিহাসে বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে স্পিকারকে এ ধরনের অনুরোধ এবারই প্রথম। তিনি আরও বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা সংসদে তার এলাকার একটি সমস্যা তুলে ধরার পর প্রধানমন্ত্রী সে দিন সন্ধ্যায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীকে পাঠিয়েছিলেন। বিরোধীদলীয় নেতা একটি পণ্যে করছাড়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী সেটিও বিবেচনায় নিয়েছেন। সরকার এবং বিরোধী দল ঐক্যভাবে দেশটাকে দাঁড় করাতে চায়।
তিনি বলেন, খাদ্যদ্রব্যসহ প্রয়োজনীয় ৬৩টি পণ্যে কর বাড়ানো হয়নি। কিছু ক্ষেত্রে কর কমানো হয়েছে। যেসব পণ্যে কর কমেছে, সেগুলোর দাম কমা উচিত।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ‘জীবনবান্ধব’ হয়েছে। চিফ হুইপ জানান, তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, সবকিছুতে কর কমালে সরকার চলবে কীভাবে। উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, প্রতি বছর যে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে, তা বন্ধ করা গেলে অর্থের সমস্যা হবে না।
চিফ হুইপ বলেন, সরকার ‘চরমভাবে ভাঙা অর্থনীতি’ নিয়ে দায়িত্ব নিয়েছে। ব্যাংক খাত ফোকলা হয়ে গেছে, ডলারের দাম এক দিনে ৭ ডলার বেড়েছে, কিছু ব্যাংকে চেক দিলেও টাকা পাওয়া যায় না। এ অবস্থায়ও দেশে কোনো ‘হাহাকার’ তৈরি হয়নি।
নূরুল ইসলাম মনি বলেন, এ যে হাহাকার নেই, এটিই তারেক সাহেবের পরিশ্রম। তিনি পদ্মা ব্যারাজ, তিস্তা ব্যারাজ, ২৫ কোটি গাছ লাগানো, ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন, কৃষি কার্ড, ফ্যামিলি কার্ডসহ সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
বাজেট অধিবেশন ঘিরে ডিনারের আয়োজন নিয়েও কথা বলেন নূরুল ইসলাম মনি। তিনি জানান, প্রথমে ডিনার না করার কথা উঠলেও পরে ‘ট্র্যাডিশন’ হিসেবে আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়। তবে প্রধানমন্ত্রী ব্যয় কমানোর কথা বলেন। তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ও হামে শিশু মৃত্যুর বিষয় বিবেচনায় রাষ্ট্রের টাকা অপচয় না করার মনোভাব থেকেই এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।
চিফ হুইপ বলেন, একটা টাকা নষ্ট করা যাবে না, এমন উপলব্ধি নিয়েই প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করছেন।
হামে শিশুমৃত্যু নিয়ে প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, বিষয়টি সরকার গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। অন্তর্বর্তী সরকার দুই বছরে হামের টিকা আনেনি; আগের সরকারও টিকা আনেনি। টিকা না দেওয়ার কারণেই এখন ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।