প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৫:১৬ পিএম (ভিজিট : ৪২)
রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা গ্যাস সংকট এখন চরম আকার ধারণ করেছে। দিনের অধিকাংশ সময় আবাসিক লাইনে গ্যাস না থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো পরিবার। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় গড়ে ওঠা কিছু শিল্পকারখানায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মোটর বা কম্প্রেসারের মাধ্যমে অতিরিক্ত গ্যাস ব্যবহারের কারণেই এ সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
সরেজমিনে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অনেক বাসাবাড়ির চুলায় পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ থাকে না। কোথাও একেবারেই গ্যাস থাকে না, আবার কোথাও এতটাই কম চাপ থাকে যে রান্না করা সম্ভব হয় না। এতে শিশু, বয়স্ক ও কর্মজীবী মানুষের দৈনন্দিন জীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কিছু কারখানায় অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহার করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে শক্তিশালী মোটর বা কম্প্রেসারের মাধ্যমে লাইনের গ্যাস টেনে নেওয়া হয়, যার ফলে আবাসিক গ্রাহকরা পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছেন না। তবে এসব অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ভুক্তভোগীরা বলেন, গ্যাসের অভাবে অনেক পরিবার বাইরে থেকে খাবার কিনে খেতে বাধ্য হচ্ছে। অনেকে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করছেন, ফলে সংসারের ব্যয় বেড়ে গেছে। নিয়মিত গ্যাস বিল পরিশোধ করেও সেবা না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট গ্যাস বিতরণকারী কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কার্যকর অভিযান বা অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার দৃশ্যমান উদ্যোগ খুব একটা দেখা যায়নি। এ কারণে অবৈধ সংযোগের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সচেতন নাগরিকরা।
জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, কোনো এলাকায় অবৈধ সংযোগ, লাইনের অপব্যবহার বা উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন যন্ত্রের মাধ্যমে অতিরিক্ত গ্যাস ব্যবহার হলে আবাসিক গ্রাহকদের গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই নিয়মিত পরিদর্শন, অবৈধ সংযোগ শনাক্তকরণ এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট গ্যাস বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
কামরাঙ্গীরচরের বাসিন্দাদের একটাই দাবি দ্রুত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ সংযোগ শনাক্ত ও বিচ্ছিন্ন করতে হবে, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং নিয়মিত গ্যাস বিল পরিশোধকারী আবাসিক গ্রাহকদের স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।