প্রকাশ: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ৪:৪৩ পিএম (ভিজিট : ১২১)

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন চার মাস পিছিয়ে যাওয়ায় তার মরদেহ কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে- এ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসলামী রীতি লঙ্ঘন না করেই রেফ্রিজারেটেড কোল্ড স্টোরেজে (নিয়ন্ত্রিত শীতল সংরক্ষণ) মরদেহ রাখা সম্ভব।
ইসলামী শরিয়তে সাধারণত মৃত্যুর পর দ্রুত দাফনের নির্দেশনা রয়েছে এবং রাসায়নিক এমবামিং (দেহে রাসায়নিক প্রয়োগ করে সংরক্ষণ) নিরুৎসাহিত করা হয়। তাই ধারণা করা হচ্ছে, খামেনির মরদেহে এমবামিং করা হয়নি; বরং বিশেষ তাপমাত্রা-নিয়ন্ত্রিত কোল্ড স্টোরেজে রাখা হয়েছে।
সন্ত্রাসবাদবিষয়ক বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ ওমর বলেন, ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে, বিশেষ করে নিরাপত্তাজনিত কারণে শিয়া ইসলামী আইন বিলম্বিত দাফন এবং রেফ্রিজারেশনের মাধ্যমে মরদেহ সংরক্ষণের অনুমতি দেয়। তার ভাষ্য, ইরানের ফরেনসিক সুবিধাগুলো দীর্ঘ সময় মরদেহ সংরক্ষণের সক্ষমতা রাখে। ফলে এটি ধর্মীয় ও আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য একটি ব্যবস্থা।
ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খামেনির দাফন আগামী ৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে তার মরদেহ তিন দিন তেহরানের মোসাল্লা নামাজ কমপ্লেক্সে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে। পরে জানাজা শেষে তেহরান, ইরাকের নাজাফ ও কারবালা, এরপর কুম হয়ে শেষ পর্যন্ত তার জন্মস্থান মাশহাদের ইমাম রেজা মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হবে।
কর্তৃপক্ষ বলছে, লাখো মানুষের উপস্থিতির সম্ভাবনা থাকায় এবারের জানাজা ও দাফনকে ঘিরে দেশটির ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এর পেছনে ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি এবং ২০২০ সালে জেনারেল কাসেম সোলাইমানির জানাজায় পদদলিত হয়ে বহু মানুষের প্রাণহানির অভিজ্ঞতাও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লাখো মানুষের সমাগমের আশঙ্কায় ভিড় নিয়ন্ত্রণই সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। প্রয়োজন হলে শবযাত্রার সময় হেলিকপ্টার ব্যবহার করে জনসমাগম পর্যবেক্ষণ ও কফিনের নিরাপদ পরিবহন নিশ্চিত করা হতে পারে।
বর্তমানে জানাজার নামাজে কে ইমামতি করবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো ঘোষণা দেয়নি ইরানি কর্তৃপক্ষ। খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনির নাম নিয়ে জল্পনা থাকলেও সরকারিভাবে কিছু জানানো হয়নি।