
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী সাঈদ উদ্দিন খান জাবেদের নির্বাচনী জনসভা। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও দুর্নীতিবিরোধী বক্তব্যে জনসভাটি স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বাঞ্ছারামপুরে অনুষ্ঠিত এ জনসভায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন। জনসভাস্থল জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর ও পীর সাহেব চরমোনাই মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করিম বলেন, “বাঞ্ছারামপুরবাসী এবার সৎ ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। হাতপাখা প্রতীকে ভোট দিয়ে সাঈদ উদ্দিন খান জাবেদকে বিজয়ী করতে হবে। দুর্নীতিবাজ ও লুটপাটকারীদের আর সুযোগ দেওয়া যাবে না।”
তিনি ১১ দলীয় জোটের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, জামায়াতের আমীর নিজেই বলেছেন—তারা ইসলাম অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করবে না। পাশাপাশি তিনি গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী ও বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী জোনায়েদ সাকিকে উদ্দেশ করে প্রশ্ন তোলেন, কোন আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য তিনি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।তিনি তো বাম দল করেন।
মুফতি রেজাউল করিম আরও বলেন, “ইসলাম শান্তির ধর্ম। মুক্তিযুদ্ধের সময় এ দেশের সংখ্যালঘুরাও নিরাপত্তার জন্য মাদ্রাসায় আশ্রয় নিয়েছিল। ইসলামের ইতিহাস সহনশীলতা ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়।”
তিনি দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে মন্তব্য করে বলেন, বিএনপি ও আওয়ামী লীগের ক্ষমতার পালাবদলের সময় একে অপরের নেতাকর্মীরা পালিয়ে বেড়ালেও ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ সবসময় নির্যাতিতদের পাশে দাঁড়িয়েছে। “গরম টাকার বিনিময়ে আমাদের নীতি ও আদর্শ বিক্রি করা যাবে না। ৫৪ বছর ধরে মানুষ পুরনো রাজনীতির ফল ভোগ করেছে,”—বলেন তিনি।
প্রার্থী সাঈদ উদ্দিন খান জাবেদ তার বক্তব্যে বলেন, “আমি এমপি হতে চাই ভোগের জন্য নয়, দায়িত্ব পালনের জন্য। বাঞ্ছারামপুরকে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নৈতিকতার মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।”
তিনি প্রতিটি ইউনিয়নে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, হাসপাতাল দালালমুক্ত করা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিকতা ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ের প্রতিশ্রুতি দেন। কোনো শিশু যাতে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়েও তিনি গুরুত্ব দেন।
সাইদ উদ্দিন খান জাবেদ আরও বলেন, “দলমত নির্বিশেষে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কোনো আপস হবে না। প্রয়োজনে নিজের আয়ের হিসাবও জনসমক্ষে তুলে ধরব। জনগণের আস্থা ভাঙতে দেব না।”
জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান,সভাপতি সামসুল হক সুমন ও সঞ্চালক মাওলানা মো. জাকির হোসেন। তারা বলেন, “আজকের জনসভা প্রমাণ করে বাঞ্ছারামপুরের মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ। তারা আর ব্যর্থ নেতৃত্ব দেখতে চায় না।”
জনসভায় ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মী, আলেম-ওলামা, শিক্ষক, যুব ও ছাত্রনেতাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। শেষে বক্তারা ভোটারদের হাতপাখা প্রতীকে ভোট দিয়ে সাঈদ উদ্দিন খান জাবেদকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।