প্রতিদিনই আমার আপনার কাছ থেকে প্রচুর তথ্য আমাদের অনুমতি ছাড়াই আরেক পক্ষের কাছে চলে যায়। সেসব তথ্য তারা সংগ্রহ করে রাখে। এখন আশঙ্কা হচ্ছে- এসব তথ্য যখন কোয়ান্টাম কম্পিউটারওয়ালাদের হাতে গিয়ে পড়বে তখন কী হবে!
"আজকের দিন আমরা ইন্টারনেটে যা কিছু করি, অনলাইনে কেনাকাটা, ব্যাংকিং, সোশাল মিডিয়ায় যোগাযোগ ইত্যাদি যা কিছুই আমরা করি সেগুলো এনক্রিপ্টেড থাকে। কিন্তু যখন কোয়ান্টাম কম্পিউটার হাতে চলে আসবে তখন এসব এনক্রিপশন খুব সহজেই ভেঙে ফেলা সম্ভব হবে," বলেন পোস্টকোয়ান্টাম কোম্পানির একজন বিজ্ঞানী হ্যারি ওয়েন।
কম্পিউটার যুদ্ধ
এখন ভেবে দেখুন এমন এক ডিজিটাল বিশ্বের কথা যেখানে সবকিছু এনক্রিপ্টেড বা সুরক্ষিত, সেখানে কোয়ান্টাম কম্পিউটারের সাহায্যে হঠাৎ করেই সব গোপনীয়তা ভেঙে ফেলা হলো, তখন কী পরিস্থিতির তৈরি হবে?
বিজ্ঞানীরা এই ঘটনাকে বলছেন "কোয়ান্টাম মহাপ্রলয়।"
যে দেশ সবার আগে কোয়ান্টাম কম্পিউটার প্রযুক্তি তৈরি করতে পারবে তারাই ডিজিটাল বিশ্বে আধিপত্য বিস্তার করবে।
এধরনের উন্নত কম্পিউটার যেসব দেশের কাছে থাকবে তারা অন্য দেশের রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাতেও হস্তক্ষেপ করতে সক্ষম হবে। এবং তার ফেলে সারা বিশ্বে উত্তেজনা দেখা দিতে পারে।
এজন্য বিজ্ঞানীরা এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন। তারা বলছেন, এরকম পরিস্থিতি মোকাবেলায় এখনই যদি প্রস্তুতি নেওয়া শুরু না হয়, তাহলে খারাপ ঘটনা ঘটবে।
"একটি দেশ চাইলে আরেকটি দেশের তথ্য চুরি করতে পারবে। ক্ষেপণাস্ত্র থাকুক, অথবা পরমাণু বোমা থাকুক, ভবিষ্যতে যাদের কাছে কোয়ান্টাম কম্পিউটার থাকবে তারাই হয়ে উঠবে সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্র," বলেন তথ্য প্রযুক্তিবিদ জাকারিয়া স্বপন।
তবে সুখবর হচ্ছে ক্ষমতাধর দেশগুলো ইতোমধ্যে সে ধরনের ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে। রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য ইতোমধ্যেই তারা এমন প্রযুক্তিতে সংরক্ষণ করছে যা কোয়ান্টাম কম্পিউটার দিয়েও ভেঙে ফেলা কঠিন হবে।
গুগল, মাইক্রোসফট, ইন্টেল এবং আইবিএমের মতো প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এসব নিয়ে কাজ করছে। তবে এই কাজ খুব ব্যয়বহুল ও পরিশ্রমসাধ্য। সূত্র: বিবিসি বাংলা