প্রকাশ: শুক্রবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২১, ১০:৪০ পিএম (ভিজিট : ৯৭৮)
আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমালোচনাকে কোন রকম পাত্তা দেন না। উনি উনার দূরদর্শী পরিকল্পনা, উনার যে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, উনার যে ভিশনারি চিন্তা আছে তার মাধ্যমে এই মহামারী রোধকল্পে এটা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। আমি বলব আল্লাহর অশেষ রহমত আর উনার এই গুণবতী নেতৃত্বের কারণে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় আমরা অনেক ভালো অবস্থানে আছি। করোনার মধ্যেও আমাদের বাংলাদেশে অর্থনীতিকে চাঙ্গা রেখেছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা।
দৈনিক ভোরের পাতার নিয়মিত আয়োজন ভোরের পাতা সংলাপের ২৩৪তম পর্বে এসব কথা বলেন আলোচকরা। শুক্রবার (২৯ জানুয়ারি) আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) এর মহাসচিব অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবদুল আজিজ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের চেয়ারম্যান, প্রগতিশীল শিক্ষক সংগঠন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (নীলদল) এর সভাপতি, লাইফ এন্ড আর্থ সাইন্স অনুষদের প্রাক্তন ডিন অধ্যাপক ড. জাকারিয়া মিয়া, শেরপুর সদরের সেন্ট্রাল কাউন্সিলর, বি এম এ, মেডিকেল অফিসার (এমসিএইচ-এফ পি) ডা. শারমিন রহমান অমি। দৈনিক ভোরের পাতা সম্পাদক ও প্রকাশক ড. কাজী এরতেজা হাসানের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাবেক তথ্য সচিব নাসির উদ্দিন আহমেদ।
অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবদুল আজিজ বলেন, করোনা ম্যানেজমেন্ট নিয়ে একটি মহল প্রথম দিক থেকেই সমালোচনা করে চক্রান্ত করে এসেছে। যদি এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক সকল জরিপ তাদের মুখে কুলুপ এঁটে দিয়েছে। এখন আবার তারা করোনা টিকা নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানে দেশের উন্নয়ন। দেশের প্রতিটি উপজেলার উন্নয়নে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। অন্যদিকে বিএনপি করোনার টিকা নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। কোভিড ভ্যাকসিন নিয়ে অযথা নানারকম গুজব ছড়ানো হচ্ছে, এবং একশ্রেণীর রাজনীতিবিদরা তাতে ইন্ধন যোগাচ্ছে। বিজ্ঞানকে অস্বীকার করার রাজনীতি আমাদের দেশেও হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি। অনেক উন্নত দেশের মতো বাংলাদেশকে করোনা মোকাবেলায় রোগীদের ঠাঁই দেয়ার জন্য তাঁবু খাটাতে হয়নি। এটা ঠিক, করোনা মোকাবেলায় এখানে লকডাউন দিতে হয়েছে, আবার অর্থনীতির চাকা সচলের জন্য যথাসময়ে লকডাউন তুলেও নেয়া হয়েছে। লকডাউনের সময়ে ৫০ লাখ পরিবারের প্রত্যেকটিকে দুই হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ সহায়তা দেয়া সীমিত সম্পদের বাংলাদেশের পক্ষে একটি সাহসী সিদ্ধান্ত ছিল। আমরা যদি দেখি এই কোভিড-১৯ চলাকালীন সময়ে আমাদের বেকারত্ব সমস্যা, স্বাভাবিক জীবন-যাপন, লকডাউনের মধ্যেও আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি সুকৌশলী ভূমিকা রেখেছেন। করোনায় আমাদের চিকিৎসা সরঞ্জাম, চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে আমরা শুরুতে অনেক সমস্যায় ছিলাম। তখন বিশ্বের উন্নত দেশ থেকে আমাদেরকে এই চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ ও আমাদেরকে করোনার উন্নত চিকিৎসা জ্ঞান দেওয়ার জন্য স্কোপ তৈরি করে দেওয়া হয়েছিল। করোনা ভ্যাকসিন নিয়ে এক শ্রেণির রাজনৈতিক মতাদর্শের লোকেরা প্রথম দিকে বলেছিল এই ভ্যাকসিন দেশে কোনভাবেই সরকার আনতে পারবে না। আবার যখন ভ্যাকসিন আসা শুরু করলো তখন তারা বললো, ভ্যাকসিন প্রাইভেট কোম্পানিকে দিয়েছে, ত্রিমুখী চুক্তি করেছে। এই নিয়ে অনেক তোলপাড় কাণ্ড। আবার যখন ভ্যাকসিন দেশে চলে আসলো তখন তারা বলা শুরু করল, এই ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা আছে কিনা, এই ভ্যাকসিন গিনিপিগের মতো ব্যবহার করবে, এই ভ্যাকসিনে পানি আছে নাকি শুকুরের চর্বি আছে কিনা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তকারীরা একটা অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। সব জল্পনা কল্পনার পরে কিন্তু আমাদের দেশে ভ্যাকসিন আসলো এবং ২৭ তারিখ সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভ্যাকসিন প্রদান কর্মসূচী উদ্বোধন করলেন। এই করোনা কালে আমরা যদি কৃষি খাদ্যে যদি দেখি তাহলে এই করোনার সময়ে কোন সমস্যা হয়নি খাদ্য দ্রব্যের মূল্য নিয়ে। আমাদের কৃষকের ধান কাটা নিয়ে যে সমস্যা হয়েছিল তা সমাধানে শেখ হাসিনা তার সুকৌশলী দিক-নির্দেশনা দিয়ে তার দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীদের দ্রুত মাঠে নামিয়ে এই ফসল কৃষকের ঘরে তোলার ব্যবস্থা করেছিলেন। এটি একটি ঐতিহাসিক ঘটনা যে, একজন রাজনৈতিক দল, একটি রাজনৈতিক দলের প্রধানের নেতৃত্বে এইরকম একটি অতি মহামারীতে জনগণের পাশে থেকে রাজনৈতিক যে সেবা বা রাজনীতিবিদ হয়ে যে সেবাটা দিয়েছে তা আমার কাছে মনে হয় বাংলাদেশ তো বটেই পৃথিবীর ইতিহাসে কোথাও হয়েছে কিনা আমার জানা নেই।