
প্রাকৃতিক অপরুপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি গারো পাহাড়ের নতুন পর্যটন স্পট গাবরাখালীতে ভ্রমণ পিপাসুরা বন্ধু-বান্ধব এমনকি পরিবার-পরিজন নিয়ে বেড়াতে আসেন।পাহাড়ি পিকনিক স্পট ভ্রমণ পিপাসুদের পদচারণায় মুখর হয়ে রয়েছে।প্রতিদিনই পর্যটকদের আগমনে মুখরিত হয় এই পিকনিক স্পট। বিশেষ করে শুক্রবার হলেই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আনন্দে মাতে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার ভ্রমণ পিপাসুরা।
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার পৌরশহর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে মেঘালয় রাজ্যের সীমান্ত ঘেঁষা গারো পাহাড়। ওই পাহাড় ঘেরা গাজিরভিটা ইউনিয়নের গাবরাখালী গ্রামে সরকারি উদ্যোগে গড়ে তোলা হয়েছে ‘গাবরাখালী গারো পাহাড় পর্যটন কেন্দ্র’। অপার সম্ভাবনাময় এ পর্যটন কেন্দ্রে দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করতে ইতোমধ্যে নেয়া হয়েছে বিভিন্ন পরিকল্পনা।
চারপাশে সমতল বেষ্টিত পাহাড়, পাখিদের কোলাহল ও দৃষ্টিনন্দন পানির দৃশ্য যেন শীতল করে দেয় মনকে। এই পিকনিক স্পটে সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো ভারতের মেঘালয় রাজ্যের কিছু অংশ দেখা যায় পাহাড়ের উপর থেকে। সবুজের সমারোহ ও গজারী বাগানের মনোহারি দৃশ্য দেখে দর্শনার্থীদের চোখ ফেলা বড় দায়।
১২৫ একর এলাকা জুড়ে ছোট-বড় ৬৭টি পাহাড় নিয়ে গঠিত পর্যটন কেন্দ্রটির পাহাড়গুলো প্রায় ৭০ফুট থেকে ২০০ফুট উচু । যার উপর থেকে দেখা মেলে ইন্ডিয়ান বর্ডার। পাহাড়গুলোর রয়েছে বাহারী নাম । যেমন- চিতাখলা টিলা, যশুর টিলা, মিতালী টিলা, বাতাসী টিলা ইত্যাদি। গারো পাহাড়ের ধ্যানমগ্ন প্রতিকৃতি সৌন্দর্য পিপাসুদের মন কেড়ে নেয়।ঐতিহ্যবাহী গারো পাহাড়ের অপরুপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মুগ্ধ করে সকল বয়সের মানুষকে। বাহিরের এলাকা থেকেও পর্যটকরা আসেন এই প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করার জন্য।এখানে পর্যটকদের জন্য রয়েছে নানা সুবিধা। সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা,গাড়ি পার্কিং সুবিধা, প্রবেশ মূল্য মাত্র ২০ টাকা, রয়েছে প্যাডেল বোট, লেক ও ঝুলন্ত ব্রিজ।এছাড়াও শিশুদের জন্য রয়েছে দোলনা, বেবি পিচ, সুপেয় খাবার পানি, দূরের যাত্রীদের জন্য রয়েছে রেস্ট হাউজ, স্বাস্থ্য বিধি মোতাবেক শৌচাগার। ভারতের মেঘালয় প্রদেশের পাশ ঘেঁষে পিকনিক স্পটটি তৈরি হওয়ায় ঐ এলাকার অনেক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, পিকনিক স্পটের বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ পিপাসু মানুষ ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কেউ সেলফি তুলছেন। কেউ বা আবার প্রিয়জনের ছবি মুঠোফোনে ক্যামেরাবন্দী করছেন। শিশুদের পদচারণাও ছিল চোখে পড়ার মতো। স্বাস্থ্যবিধি মেনে পর্যটকদের স্পটে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হচ্ছে।
ময়মনসিংহ থেকে আসা দর্শনার্থী আশিক মাহমুদ বলেন, করোনায় দীর্ঘ দিন ঘরবন্দী থাকার পর পরিবারের সবাইকে নিয়ে বেড়াতে এসেছি। গারো পাহাড়ের সৌন্দর্য দেখে খুব আনন্দ লাগছে।তারই ধারাবাহিকতায় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে জায়গাটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিদায়ী জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান। বর্তমানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সহযোগিতায় পর্যটকদের জন্য গারো পাহাড়টি সুসজ্জিত করা হয়েছে।পর্যটন সম্ভাবনাময় গাবরাখালী গারো পাহাড় এই নাম দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে বর্তমান ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক গাবরাখালী গারো পাহাড় পর্যটন কেন্দ্রের বিভিন্ন উন্নয়নমূল কাজ করে যাচ্ছেন।
গাজিরভিটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো.আবদুল মান্নান বলেন,ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পর্যটকরা আসতে শুরু করেছে। রাস্তাঘাটের উন্নয়নসহ আরো সরকারি পৃষ্টপোষকতা পেলে এলাকাটি হয়ে উঠবে একটি মনোরম পর্যটন কেন্দ্র।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.সোহেল রানা দৈনিক ভোরের পাতাকে বলেন,আশা করা যায় ভবিষ্যতে পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনাময় এ সেক্টরটি থেকে সরকার রাজস্ব আদায় করে এর উন্নয়নকল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।