প্রকাশ: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩২ পিএম (ভিজিট : ১২০)

সংগৃহীত ছবি
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে একটি ‘গোপনীয়’ প্রতিবেদন পাঠিয়েছে জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে পৃথক অভিযোগে কারাবন্দী থাকলেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির কারও সাজা সম্পর্কে কনস্যুলেটের কাছে থাকা বন্দীতালিকায় কোনো তথ্য ছিল না।
গত রোববার (১৮ অক্টোবর) কনস্যুলেটের শ্রম উইং থেকে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে জানানো হয়, গত ১৪ অক্টোবর মক্কায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি হলেন নজরুল ইসলাম আব্দুল বশির ও সুইটি আক্তার। তাঁরা দুজনই সৌদি আরবের ‘আল মাজাল কোম্পানিতে’ পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন।
নথি অনুযায়ী, গত ৩০ সেপ্টেম্বর কনস্যুলেটের হাতে আসা হালনাগাদ বন্দীতালিকায় উল্লেখ ছিল, ২০২৩ সালের ১ আগস্ট সৌদি আরবের সাইবার অপরাধ আইনে নজরুল ইসলামকে আটক করা হয়। পরদিন ২ আগস্ট ব্যভিচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় সুইটি আক্তারকে। নজরুল জেদ্দা সংশোধনাগারে এবং সুইটি জেদ্দা মহিলা কারাগারে বন্দী ছিলেন।
তবে তালিকায় থাকা ৯৭ জন বন্দীর অপরাধের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলেও নজরুল ও সুইটির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট তথ্যের ঘর ফাঁকা ছিল। তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো বিচারিক রায় কিংবা মৃত্যুদণ্ডের সাজা কার্যকরের বিষয়ে সেখানে কোনো উল্লেখ ছিল না।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সৌদি আরবে সাইবার অপরাধ কিংবা ব্যভিচারের অভিযোগে কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নজির আগে জানা ছিল না। নথির হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন কারাগারে ৩০৬ জন বাংলাদেশি বন্দী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৪৭ জনের কারাদণ্ডের মেয়াদ এক মাস থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত। সাইবার অপরাধের তিনটি পৃথক মামলায় বাংলাদেশি নাগরিকদের ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল বলেও নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা কিংবা তা কার্যকরের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ আগে থেকে আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ দূতাবাস কিংবা জেদ্দা কনস্যুলেটকে কিছু জানায়নি।
এ ঘটনায় সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখায় আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক বার্তা বা ‘নোট ভার্বাল’ পাঠিয়েছে জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট। এতে পুরো বিচারপ্রক্রিয়ার বিস্তারিত বিবরণ এবং আদালতের মূল রায়ের অনুলিপি চাওয়া হয়েছে।
কনস্যুলেট জানিয়েছে, আদালতের রায়ের অনুলিপি হাতে পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন পাঠানো হবে।