প্রকাশ: রোববার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৫ পিএম (ভিজিট : ১২৪)

সংগৃহীত ছবি
মালয়েশিয়ায় কর্মরত শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিত থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার রিঙ্গিত করার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। নতুন মজুরি কাঠামো ২০২৭ সালের জুন থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এতে দেশটিতে কর্মরত লাখো বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিকও উপকৃত হতে পারেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ২০২৭ সালের জাতীয় বাজেট উপস্থাপনের সময় মজুরি বৃদ্ধির এ ঘোষণা দেন। নতুন হারে মাসিক ন্যূনতম বেতন বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫২ হাজার টাকার সমপরিমাণ হবে, যদিও বিনিময় হারের পরিবর্তনে এ পরিমাণ ওঠানামা করতে পারে।
সরকারের এ সিদ্ধান্তের ফলে মালয়েশিয়ায় কর্মরত ৪০ লাখের বেশি শ্রমিক উপকৃত হবেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশটির শ্রম আইন অনুযায়ী, স্থানীয় কর্মীদের পাশাপাশি বিদেশি শ্রমিকেরাও বিধিবদ্ধ ন্যূনতম মজুরির আওতাভুক্ত।
বাজেট বক্তৃতায় আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা ও মজুরির মধ্যে ব্যবধান কমানো প্রয়োজন। জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লেও সাধারণ মানুষের আয় একই অনুপাতে বাড়েনি। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই মজুরি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
ঘোষণায় বলা হয়েছে, বৃহৎ ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন মজুরি কাঠামো বাধ্যতামূলক হবে। তবে বার্ষিক বিক্রয় আয় ৫ কোটি রিঙ্গিতের নিচে থাকা ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আপাতত এ নিয়মের বাইরে রাখার কথা বলা হয়েছে, যাতে তারা নতুন কাঠামোর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সময় পায়।
এ ছাড়া আধা-দক্ষ কর্মী এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য স্নাতক হওয়া ব্যক্তিদের প্রারম্ভিক ন্যূনতম বেতন ২ হাজার ৫০০ রিঙ্গিত করার প্রস্তাবের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জীবনধারণযোগ্য মজুরির মানদণ্ড ৩ হাজার ৪০০ রিঙ্গিত পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।
অবৈধ বিদেশি কর্মী নিয়োগ বন্ধে করনীতিতেও কঠোরতা আনার কথা জানিয়েছে মালয়েশিয়া সরকার। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কোম্পানিগুলোকে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে কর্মীদের বেতন পরিশোধ করতে হবে। অন্যথায় তারা ব্যবসায়িক করছাড়ের সুবিধা হারাতে পারে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকর হলে বাংলাদেশি শ্রমিকদের আয় বাড়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত কাজের পারিশ্রমিক ও অন্যান্য ভাতার ওপরও প্রভাব পড়তে পারে। এর ফলে দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের প্রবাহ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে নতুন নিয়মের বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থানের ধরন এবং সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের বেতন কাঠামোর ওপর।