প্রকাশ: রোববার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৫ পিএম (ভিজিট : ৫১)

সংগৃহীত ছবি
ইউরোপে অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতে বাংলাদেশের সহযোগিতা চাইছে গ্রিস ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। বিশেষ করে লিবিয়া ও মিসর হয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসে প্রবেশের চেষ্টা বন্ধ করতে ঢাকা ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় এথেন্স। গ্রিক সংবাদমাধ্যম *কাথিমেরিনি*র এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক কয়েক দিনে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে এক হাজারের বেশি অভিবাসী পৌঁছেছেন। তাঁদের অনেকে দ্বীপটির দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের ইয়ারাপেত্রা এলাকায় অবতরণ করেন। উত্তর আফ্রিকা থেকে ক্রিটে অভিবাসীদের আগমন বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে গ্রিক কর্তৃপক্ষের মধ্যে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত গ্রিসে অভিবাসীদের মোট আগমন প্রায় ৬২ হাজার থেকে কমে ৪২ হাজারে নেমেছে। তবে সামগ্রিক আগমন কমলেও লিবিয়া থেকে ক্রিটে পৌঁছানোর সমুদ্রপথটি এখনো গ্রিসের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ। লিবিয়ায় পাঁচ লাখের বেশি শরণার্থী ও অভিবাসী অবস্থান করছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশি নাগরিকদের উত্তর আফ্রিকায় যাতায়াতের পথ নিয়ন্ত্রণে ঢাকার সহযোগিতা চায় গ্রিস ও ইইউ। বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে মিসরের কায়রো এবং লিবিয়ার বেনগাজি ও ত্রিপোলিগামী ফ্লাইট ব্যবহার করে যাতায়াতের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে গ্রিক কর্তৃপক্ষের।
এ ছাড়া অভিবাসীদের পরিচয় শনাক্ত করা এবং তাঁদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে চার্টার ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়েও বাংলাদেশ ও গ্রিসের মধ্যে সমন্বয় চলছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
অভিবাসীদের আশ্রয়প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার সম্ভাব্য ব্যবস্থার কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে এ ধরনের পদক্ষেপের বাস্তবায়ন, পরিধি কিংবা কাদের ক্ষেত্রে তা কার্যকর হতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
উত্তর আফ্রিকা থেকে সমুদ্রপথে অভিবাসীদের আগমনের কারণে ক্রিট দ্বীপটি গ্রিসে প্রবেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গ্রিক কর্তৃপক্ষের উদ্বেগের আরেকটি কারণ হলো, লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা না পাওয়ায় সমুদ্রপথে যাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও অনিয়মিত প্রবেশ ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
প্রতিবেদনে সুদানের গৃহযুদ্ধ থেকে পালিয়ে আসা নাগরিকদের মতো সংঘাতপীড়িত মানুষের সঙ্গে বাংলাদেশি নাগরিকদের অভিবাসনপথের পার্থক্যও তুলে ধরা হয়েছে। গ্রিক কর্তৃপক্ষের বিবেচনায়, কিছু বাংলাদেশি নাগরিক আকাশপথে লিবিয়ায় পৌঁছে সেখান থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসে প্রবেশের চেষ্টা করেন।
এ পরিস্থিতিতে অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ, উপসাগরীয় দেশ ও উত্তর আফ্রিকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে চায় গ্রিস ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।