শুক্রবার ২৪ জুলাই ২০২৬ ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

শিরোনাম: ককরোচ নিয়ে মুখ খুললেন বলিউড তারকারা   বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন বৈভব সূর্যবংশী   ২২ দিনে দেশে এলো ২.১৭ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স   দাবি না মানলে মোদির পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি সিজেপি প্রধানের   রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন, বিদেশ সফর সংক্ষিপ্ত করলেন স্পিকার   রাষ্ট্রপতি অপসারণের খবরকে ‘সুসংবাদ’ বললেন আসিফ মাহমুদ   বাধ্যতামূলক অবসরে পুলিশের ১৭ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা   
অধস্তন কর্মকর্তাদের বঙ্গভবন ছাড়ার নির্দেশ রাষ্ট্রপতির
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ৪:০১ পিএম   (ভিজিট : ১০৩)

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে পারেন এমন আলোচনা নতুন করে সামনে এসেছে। এর মধ্যেই বঙ্গভবনের অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শিগগিরই সরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। বঙ্গভবনকেন্দ্রিক একটি সূত্র এমন তথ্য জানিয়েছে।

সূত্রের ভাষ্য, পদত্যাগের পর রাষ্ট্রপতি কিছুদিন বিশ্রামে থাকতে পারেন। চিকিৎসার জন্য বিদেশেও যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এর আগে আল-জাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের সামি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে পারেন। এরপর বিষয়টি নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়। গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া রাষ্ট্রপতি স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন বলে বিভিন্ন সূত্রে আলোচনা চলছে।

তবে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে সরকার বা বিএনপির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বঙ্গভবনের পক্ষ থেকেও কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

বঙ্গভবনের একজন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, রাষ্ট্রপতি তাদের সঙ্গে আলোচনায় প্রায়ই বলতেন, ‘শরীরটা ভালো যাচ্ছে না, যেকোনো সময় যেকোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে নিতে পারি।’

সূত্র জানায়, পদত্যাগের পর রাষ্ট্রপতি চিকিৎসা ও বিশ্রামে সময় কাটাতে পারেন।

স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য গত মে মাসে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে যান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তার সঙ্গে ছিলেন পরিবারের সদস্য, চিকিৎসক, স্টাফ নার্স ও বঙ্গভবনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ২০২৩ সালের অক্টোবরে সিঙ্গাপুরে রাষ্ট্রপতির কার্ডিয়াক বাইপাস সার্জারি হয়েছিল। চিকিৎসকদের পরামর্শে ওই অস্ত্রোপচারের ফলোআপ পরীক্ষার জন্য তিনি যুক্তরাজ্যে যান।

গত ১২ মে কেমব্রিজের রয়াল প্যাপওয়ার্থ হাসপাতালে রাষ্ট্রপতির এনজিওগ্রাম করা হয়। পরীক্ষায় হৃদযন্ত্রের একটি ধমনিতে গুরুতর ব্লক ধরা পড়ে। পরে তাৎক্ষণিকভাবে এনজিওপ্লাস্টি করে একটি স্টেন্ট বসানো হয়। এরপর চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিলেন তিনি। নয় দিন পর দেশে ফেরেন রাষ্ট্রপতি।

তখন বঙ্গভবনের প্রেস বিভাগ ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানিয়েছিল, রাষ্ট্রপতির শারীরিক অবস্থা ‘স্থিতিশীল ও সন্তোষজনক’।

যুক্তরাজ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সারসংক্ষেপ ও নথিতে ডিজিটালি অনুমোদন দেন রাষ্ট্রপতি। লন্ডনে সুদানের প্রধানমন্ত্রী কামিল ইদ্রিসের সঙ্গে তার অনানুষ্ঠানিক সৌজন্য সাক্ষাৎও হয়। গত ১৫ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে বাণী দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

এর আগে ২৫ জুন ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী এবং ৯ জুন মরক্কোর নতুন রাষ্ট্রদূত লালা বুতাইনা এল কেরদুদি এল কুলালির পরিচয়পত্র গ্রহণ করেন তিনি।

তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিদেশ সফর শেষে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কোনো সাক্ষাৎ হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বঙ্গভবন বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২১ থেকে ২৬ জুন মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল তাঁর প্রথম বিদেশ সফর। দেশে ফিরে ২৭ জুন জাতীয় সংসদে সফরের অর্জন নিয়ে বক্তব্য দেন তিনি।

সাধারণত বিদেশ সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে সফরের বিষয়ে অবহিত করেন। তবে এবার বুধবার পর্যন্ত এমন কোনো সাক্ষাতের তথ্য প্রকাশ হয়নি। এ কারণে রাজনৈতিক অঙ্গনের অনেকে মনে করছেন, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ক্ষমতাসীনদের দূরত্ব তৈরি হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের আলোচনা অবশ্য নতুন নয়। ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মো. সাহাবুদ্দিন জানিয়েছিলেন, ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের পর তিনি দায়িত্ব ছাড়তে আগ্রহী। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি বিদায় নিতে আগ্রহী। আমি এখান থেকে চলে যেতে চাই।’

কেন এমন ভাবছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, ‘আমার ভালো লাগে না।’

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তাকে কোণঠাসা করে রাখা, বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলো থেকে তার ছবি সরিয়ে ফেলা এবং বঙ্গভবনের প্রেস উইং সংকুচিত করার ঘটনায় ‘অপমানবোধ’ করার কথাও জানিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি। তবে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করলেও তখন পদত্যাগ করেননি তিনি।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতির কাছেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং নতুন সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা শপথ নেন। এরপর ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিএনপির সহযোগিতা তাঁর প্রতি শতভাগ ছিল।

বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় তার পাশে ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি বলেছিলেন, শেখ হাসিনা তার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং তিনি তা গ্রহণ করেছেন। কিন্তু একই বছরের ১৯ অক্টোবর এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার পদত্যাগের কোনো ‘দালিলিক প্রমাণ’ তার কাছে নেই।

এ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, জাতীয় নাগরিক কমিটিসহ বিভিন্ন সংগঠন রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ দাবি করে। বঙ্গভবনের সামনেও বিক্ষোভ হয়। তখন বিএনপি সাংবিধানিক সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা তুলে রাষ্ট্রপতিকে সরানোর বিরোধিতা করেছিল।

গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ শুরুর পর জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বিরোধী দলের সদস্যরা ওয়াকআউট করেন। রাষ্ট্রপতির ভূমিকা, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় তার অবস্থান এবং শেখ হাসিনার পদত্যাগ নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের প্রতিবাদে তারা এই কর্মসূচি নিয়েছিলেন।

সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র পাঠিয়ে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে পারেন।

রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। বর্তমান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।

এ ছাড়া সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান রয়েছে।

অর্থাৎ, কাউকে পছন্দের তালিকায় রাখলেই সরাসরি রাষ্ট্রপতি করা যাবে না। তাকে নির্বাচনে প্রার্থী হতে হবে এবং সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হতে হবে। বর্তমান সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলটির সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মো. সাহাবুদ্দিন আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ২০২৩ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ওই বছরের ২৪ এপ্রিল তিনি শপথ নেন। পদত্যাগ না করলে তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা।










  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]