
গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী উজির আলীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, টেন্ডারে অনিয়ম, কমিশন বাণিজ্য, সরকারি অর্থের অপব্যবহার এবং বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে প্রভাব বিস্তার করে তিনি একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন, যার মাধ্যমে সরকারি প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন বড় উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে দেওয়ার বিনিময়ে মোটা অঙ্কের কমিশন গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পাশাপাশি নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে বিভিন্ন ধরনের অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগও করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গণপূর্ত অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জানান, রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে উজির আলীর বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের কার্যকর তদন্ত হয়নি। বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ উত্থাপিত হলেও প্রশাসনিক ব্যবস্থা ছিল সীমিত, ফলে তিনি একইভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, রাজধানীর উত্তরা, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ধানমন্ডি এবং গাজীপুরসহ বিভিন্ন স্থানে উজির আলী ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে বাড়ি, ফ্ল্যাট, জমি এবং অন্যান্য স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব সম্পদের আনুমানিক মূল্য কয়েকশ কোটি টাকা, যার উৎস নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এছাড়া ২০২২ সালে রাজধানীর আজিমপুরে একটি নির্মাণ প্রকল্পে শ্রমিক নিহতের ঘটনায়ও তার বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ ওঠে। তবে ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে কী ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গণপূর্ত অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা আরও দাবি করেন, উজির আলী ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাদের অভিযোগ, গত ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে বিপুল পরিমাণ অর্থের জোগান দেওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি ভূমিকা রেখেছিলেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশ্ন, জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ডসংক্রান্ত মামলায় আসামি হওয়ার অভিযোগ থাকার পরও কীভাবে তিনি এখনও গণপূর্ত অধিদপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
তবে প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে উজির আলীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া মেলেনি। ভবিষ্যতে তিনি এ বিষয়ে বক্তব্য প্রদান করলে তা যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
এদিকে, উজির আলীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে গণপূর্ত অধিদপ্তরে সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।