প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৪:৪৪ পিএম (ভিজিট : ৬০)

২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে ১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছে স্পেন। শিরোপা নিশ্চিত হওয়ার পর ট্রফি উঁচিয়ে ধরার পাশাপাশি আরও একটি দৃশ্য নজর কাড়ে ফুটবলপ্রেমীদের। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে দেখা যায়, স্পেনের খেলোয়াড়রা গোলপোস্টের জাল কেটে নিজেদের কাছে রেখে দিচ্ছেন। সেই মুহূর্তে দলের পোস্টারবয় লামিনে ইয়ামালের পাশাপাশি তার ছোট ভাই কেইণে ইয়ামালকেও জাল কাটার আনন্দে অংশ নিতে দেখা যায়। এরপর থেকেই অনেকের মনে প্রশ্ন ওঠে- বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর গোলপোস্টের জাল কেটে নেওয়ার কারণ কী?
বড় কোনো আন্তর্জাতিক বা ক্লাব প্রতিযোগিতায় শিরোপা জয়ের পর গোলপোস্টের জাল কেটে সংগ্রহে রাখার রীতি এখন ফুটবলে বেশ পরিচিত। খেলোয়াড়দের কাছে এটি শুধু একটি জালের টুকরো নয়, বরং তাদের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় অর্জনের প্রতীক। যে গোলপোস্টের সামনে দাঁড়িয়ে তারা চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন, সেই পোস্টের জালের অংশ নিজের কাছে রেখে দেওয়ার মাধ্যমে তারা ইতিহাসের একটি মুহূর্তকে ব্যক্তিগত স্মারক হিসেবে সংরক্ষণ করেন। পরে অনেকেই সেই জাল ফ্রেমে বাঁধাই করে রাখেন, আবার কেউ কেউ তা দিয়ে বিশেষ স্মারক বা উপহারও তৈরি করেন।
অনেক ফুটবলারের বিশ্বাস, এই জালের টুকরো সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবেও কাজ করে। ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গৌরবময় দিনের স্মৃতি হিসেবে এটি তাদের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান। তাই ট্রফি, পদক কিংবা জার্সির পাশাপাশি গোলপোস্টের জালের অংশও ব্যক্তিগত সংগ্রহে বিশেষ স্থান পায়।
এই ঐতিহ্যের শেকড় মূলত যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ বাস্কেটবলে। সেখানে গুরুত্বপূর্ণ শিরোপা জয়ের পর বাস্কেটের নেট কেটে নেওয়ার দীর্ঘদিনের রীতি রয়েছে। তবে বিশ্ব ফুটবলে এই উদযাপনকে জনপ্রিয় করে তুলেছেন স্পেনের সাবেক তারকা ডিফেন্ডার জেরার্ড পিকে। বার্সেলোনা ও স্পেনের হয়ে সম্ভাব্য প্রায় সব বড় শিরোপা জয়ের পর তাকে কাঁচি দিয়ে গোলপোস্টের জাল কাটতে দেখা গেছে।
বিশেষ করে ২০১০ সালের বিশ্বকাপ, ২০১২ সালের ইউরো এবং বার্সেলোনার হয়ে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের পর পিকের এই উদযাপন বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনায় আসে। এরপর ধীরে ধীরে এটি আধুনিক ফুটবলে এক ধরনের অলিখিত প্রথায় পরিণত হয়।
বর্তমানে ক্লাব ফুটবল থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট- বড় কোনো ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর প্রায়ই দেখা যায়, ম্যাচ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই খেলোয়াড়রা মাঠকর্মী কিংবা ম্যাচ কর্মকর্তাদের সহায়তায় কাঁচি বা ধারালো যন্ত্র দিয়ে গোলপোস্টের জাল কেটে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিচ্ছেন।
ট্রফি, পদক কিংবা বিজয়ী দলের সম্মাননা তো থাকেই, তবে নিজের হাতে কেটে নেওয়া গোলপোস্টের জালের টুকরোটি খেলোয়াড়দের কাছে আরও ব্যক্তিগত একটি স্মৃতি। মাঠের লড়াই, পরিশ্রম, ঘাম, আবেগ ও সাফল্যের প্রতীক হিসেবে এই ছোট্ট জালই হয়ে ওঠে তাদের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান স্মারকগুলোর একটি।