প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ৪:৫৫ পিএম (ভিজিট : ৩০)

যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ বিমান হামলার জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার বিরুদ্ধে তাদের ‘শাস্তিমূলক জবাবের’ প্রথম ধাপ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে। হামলাটি আইআরজিসির নৌ ও মহাকাশ বাহিনীর যৌথ অভিযানের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে।
আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, চারটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজান ও আলি সালেম বিমান ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। আর বাহরাইনে হামলা চালানো হয়েছে জুফাইর ও শেখ ইসা বিমান ঘাঁটিতে। আইআরজিসি বলেছে, এসব ঘাঁটির ‘গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও সামরিক স্থাপনা’ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে।
এই হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে বুধবার (৮ জুলাই) রাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বিমান হামলা চালায়। মার্কিন বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে ইরানের সামরিক অবকাঠামো, উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র অবস্থান এবং সামরিক লজিস্টিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়।
এর আগে খামেনির শোকযাত্রার মধ্যে গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে ইরানে বড় আকারের হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, চার ঘণ্টার অভিযানে ৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে।
একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি শেষ হয়েছে বলে ঘোষণা দেন। মার্কিন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বেশ কয়েকটি মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানায়, তারা বাহরাইন ও কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের ৮৫টি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
ইরান হামলার দাবি করলেও তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি। কুয়েত ও বাহরাইনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহতের চেষ্টা চালানো হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এবং হতাহতের তথ্য স্বাধীনভাবে এখনো যাচাই করা যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন হামলার জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করার মাধ্যমে সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। এতে হরমুজ প্রণালি ও বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও তেলের দামের ওপরও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।