প্রকাশ: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ৬:১০ পিএম (ভিজিট : ৮৪)

এক নিকট আত্মীয়কে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এস্তে মেডিকেল বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ফয়সালকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনায়েদ শুনানি শেষে তার জামিন আবেদন নাকচ করে এ আদেশ দেন।
প্রসিকিউশন সূত্র জানায়, উচ্চ আদালত থেকে পাওয়া আট সপ্তাহের জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় মোহাম্মদ ফয়সাল মঙ্গলবার নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে পুনরায় জামিন আবেদন করেন। তার পক্ষে ঢাকার বারের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবুল কালাম খানসহ কয়েকজন আইনজীবী শুনানিতে অংশ নেন। অন্যদিকে বাদীপক্ষে ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি খোরশেদ মিয়া আলমসহ একাধিক আইনজীবী জামিন আবেদনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালতের আদেশের পর আদালত কক্ষের সামনে দুই পক্ষের আইনজীবী ও উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে তুমুল হট্টগোলের ঘটনা ঘটে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হস্তক্ষেপ করে।
আদালতে দায়িত্বরত পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, আসামির সঙ্গে কয়েকজন দেহরক্ষী আদালতে এসেছিলেন। জামিন নামঞ্জুর হওয়ার পর বাদীপক্ষের এক আইনজীবীর সঙ্গে তাদের একজনের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নিরাপত্তার মধ্যে আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এদিকে আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার সময় সাংবাদিকরা ছবি তুলতে গেলে ফয়সালের সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তি বাধা দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত বছরের ২১ জুন অভিযুক্ত মোহাম্মদ ফয়সাল তার নিকট আত্মীয় এক তরুণীকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যান এবং একাধিকবার তাকে ধূমপানে উৎসাহিত করার চেষ্টা করেন। পরে ২৪ জুন গুলশানের কনকর্ড সিলভি হাইটসে অবস্থিত এস্তে মেডিকেল বাংলাদেশের কার্যালয়ে দুপুরের খাবারের আমন্ত্রণ জানান। সেখানেও একই ধরনের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর রাতে গাড়িতে করে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার সময় গাড়ি চালানো শেখানোর কথা বলে তরুণীকে যৌন নিপীড়ন করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, ঘটনার পর পারিবারিক সম্পর্কের অবনতি ও সামাজিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে ভুক্তভোগী বিষয়টি প্রথমে গোপন রাখেন। তবে চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল বড় বোনের বিয়ের অনুষ্ঠানে অভিযুক্ত বাসায় গেলে তাকে দেখে ভুক্তভোগী চিৎকার করে ওঠেন। পরে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারেন এবং ২৩ এপ্রিল ভুক্তভোগীর বাবা গুলশান থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর ৬ মে উচ্চ আদালত থেকে আট সপ্তাহের জামিন পান মোহাম্মদ ফয়সাল। সেই জামিনের মেয়াদ শেষ হলে মঙ্গলবার আত্মসমর্পণ করে পুনরায় জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। উল্লেখ্য, মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন।