প্রকাশ: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৮:৩১ পিএম (ভিজিট : ৪৮)

রাজধানীর কারওয়ান বাজার ও বাংলামোটর এলাকায় স্থাপিত এআই ক্যামেরা বন্ধ রাখা হয়েছে এমন খবর ছড়িয়ে পড়েছে অনলাইন ও অফলাইনে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ফটোকার্ডে দেখা গেছে, কারওয়ান বাজারের পর বাংলামোটরের এআই ক্যামেরা বন্ধ হয়েছে। এ ধরনের পোস্ট ছড়িয়ে পড়ায় সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর করতে উদ্যোগ নিয়ে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ।
ট্রাফিক বিভাগের সংশ্লিষ্টরা জানান, কারওয়ান বাজার এলাকায় এআই ক্যামেরা ব্যবস্থাপনা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও সেটি কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত বা কার্যক্রম স্থগিতের কারণে নয়। মূলত এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ লাইনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু কারিগরি কাজ চলাকালে ক্যামেরা ব্যবস্থার সংযোগ তার কেটে যায়। এর ফলে সাময়িকভাবে ক্যামেরাগুলোর কার্যক্রম ব্যাহত হয়। পরে ত্রুটিগুলো সারিয়ে আবারও ক্যামেরাগুলো সচল করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার আনিছুর রহমান বলেন, বৈদ্যুতিক লাইনে কাজ চলাকালে ক্যামেরার তার কাটা পড়েছিল। তবে দ্রুতই পুনঃস্থাপন করা হয়। এআই ক্যামেরা স্থগিত করা হয়েছে এমন তথ্য সঠিক নয়।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়গুলোতে স্থাপিত এআই ক্যামেরাগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্তকরণ এবং ডিজিটাল প্রসিকিউশনের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। লাল বাতি অমান্য, স্টপ লাইন লঙ্ঘন, উল্টো পথে চলাচলসহ বিভিন্ন ট্রাফিক অপরাধ শনাক্তে এসব ক্যামেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ঢাকার বিভিন্ন মোড়ে গত ৭ মে থেকে পরীক্ষামূলকভাবে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। এআইভিত্তিক ক্যামেরায় সড়ক পরিবহন আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করার সফটওয়্যার সংযোজন করা হয়েছে। সফটওয়্যারের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী, আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে সেই গাড়ি শনাক্ত করছে ক্যামেরা। সে অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিকের নামে ডিজিটালি মামলা দেওয়া হচ্ছে।
ট্রাফিক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ শুরুতে ঢাকার ৩০টি মোড়ে এআই ক্যামেরা স্থাপন করেছে। আগে থেকেই ৮০টি ক্যামেরা ছিল, যেগুলো এআই প্রযুক্তিতে নিয়ে আসা হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট ১১০টি ক্যামেরা থেকে ভিডিও চিত্র সংগ্রহ করে এআই দিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়। ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে রাজধানীর সব সিগন্যাল বাতির খুঁটিতে এ ধরনের ক্যামেরা বসানো হবে। সংখ্যা দাঁড়াবে ৫০০টিতে। এখন মহাখালী বাস টার্মিনালসংলগ্ন এলাকায় নতুন ক্যামেরা বসানোর কাজ চলছে।