
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। তবে এই চুক্তির পেছনে ইরানের আগ্রহের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অসহায়ত্ব’ ও মরিয়া ভাবই মূল ভূমিকা পালন করেছে বলে এক বার্তায় তিনি মন্তব্য করেছেন।
মোজতবা খামেনি তার বার্তায় বলেন, ইরানের প্রেসিডেন্ট ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য ইরানের কর্মকর্তারা আন্তরিকভাবে কাজ করলেও মূলত মার্কিন পক্ষই এর জন্য সবচেয়ে বেশি চাপ সৃষ্টি করেছিল।
তিনি দাবি করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত অসহায় হয়ে এ চুক্তিটি সম্পন্ন করতে সব ধরনের কৌশল ও চাপ প্রয়োগের পথ অবলম্বন করেছিলেন।
খামেনি স্বীকার করেন যে, নীতিগতভাবে এই চুক্তি নিয়ে তার ব্যক্তিগত কিছু দ্বিমত ও আপত্তি ছিল। তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট দেশের জনগণের অধিকার রক্ষা এবং ‘প্রতিরোধ ফ্রন্ট’ বা রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্টের স্বার্থ সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় তিনি শেষ পর্যন্ত এই চুক্তির অনুমতি দিয়েছেন।
তিনি নিজ দেশের জনগণকে আশ্বস্ত করে বলেন, চুক্তির বাইরে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যদি অতিরিক্ত কোনো অন্যায় দাবি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে ইরান তা কোনোভাবেই মেনে নেবে না।
ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন শেষে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর দেওয়া এক নৈশভোজে এই সমঝোতা স্মারকে ট্রাম্প স্বাক্ষর করেন।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এই ঘটনাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এই চুক্তিটি স্থায়ী শান্তির পথ প্রশস্ত করবে এবং এর মাধ্যমে পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় উন্মুক্ত হবে।
যদিও আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি আজ শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
তেহরান নিশ্চিত করেছে যে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পরও জেনেভার পূর্বনির্ধারিত বৈঠকটি যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে।
আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ নামে অভিহিত এই চুক্তিতে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করে নেবে এবং এই সময়ের মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল যুদ্ধপূর্ব স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ ছাড়া চূড়ান্ত চুক্তি হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের আশপাশ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করার বিষয়েও ওয়াশিংটন সম্মত হয়েছে।
অন্যদিকে ইরান আগামী ৬০ দিনের জন্য কোনো ধরনের শুল্ক ছাড়াই হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে নিজেদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানোর বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর এখন চূড়ান্ত ও ব্যাপকভিত্তিক শান্তি চুক্তি গঠনের শর্তগুলো নিয়ে আলোচনার জন্য উভয় পক্ষ আগামী ৬০ দিন সময় পাবে।