বুধবার ১৭ জুন ২০২৬ ৩ আষাঢ় ১৪৩৩

শিরোনাম: সাতক্ষীরায় তিন দিন ধরে নিখোঁজ গৃহবধূ চন্দনা   সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিলেন ডিএমপি কমিশনার   সাবেক এমপি ও মায়ের ঘনিষ্ঠ সহচর খালেদা রাব্বানীকে দেখতে গেলেন প্রধানমন্ত্রী   ইরানকে নতুন করে বোমা হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের   দুঃখ-কষ্ট কেন আসে? প্রতিটি পরীক্ষায় লুকিয়ে থাকে রহমতের ইঙ্গিত   ভিসা জটিলতা কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসছেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষকের মা   নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকবে, বাড়ার সুযোগ নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী   
ইরানের পুনর্গঠনে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য তহবিল, কী বলছে যুক্তরাষ্ট্র?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ১:৩২ পিএম   (ভিজিট : ৩৮)

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তির অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন তেহরানকে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পুনর্গঠন তহবিল দিচ্ছে এমন দাবিকে নাকচ করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি কোনো অর্থ দিচ্ছে না; বরং ইরান চুক্তির শর্ত মেনে চললে অন্যান্য দেশকে সেখানে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হবে।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

সম্প্রতি বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইরান শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পুনর্গঠন তহবিলে প্রবেশাধিকার পেতে পারে। চুক্তিটি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্থতায় হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

‘দ্য মেগিন কেলি শো’-তে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ভ্যান্স বলেন, ইরান যদি চুক্তির শর্ত মেনে চলে, তাহলে দেশটির ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে, যাতে বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহের পথ খুলে যায়।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, যদি সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানে একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিনিয়োগ করতে চায়, তাহলে বর্তমান বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে তা সম্ভব হবে না। সে ক্ষেত্রে কিছু নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে।

ভ্যান্স বলেন, অনেকে বলছেন আমরা ইরানকে অর্থ দিচ্ছি। বাস্তবে তা নয়। আমরা বলছি, ইরান যদি তার আচরণ পরিবর্তন করে এবং চুক্তির শর্ত মেনে চলে, তাহলে অন্য দেশগুলোকে তাদের অর্থনীতির পুনর্গঠন ও জনগণের সমৃদ্ধির জন্য বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হবে।

রয়টার্সকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধজনিত ক্ষয়ক্ষতির জন্য ইরান প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৪০০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিল। তবে ওয়াশিংটন জানিয়ে দেয়, তারা এ ধরনের অর্থ প্রদান করবে না।

মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতি ইরান গত চার দশকে যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে উল্লেখযোগ্য বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণ করতে পারেনি। অথচ দেশটিতে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রমাণিত প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত এবং চতুর্থ বৃহত্তম তেলের মজুত রয়েছে।

এ ছাড়া ৯ কোটির বেশি শিক্ষিত ও তরুণ জনগোষ্ঠী, বহুমুখী শিল্পভিত্তি এবং পেট্রোকেমিক্যাল, খনিজ, পর্যটন ও কৃষিখাতে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে দেশটির।

সূত্রটির ভাষ্য অনুযায়ী, এই বিনিয়োগ তহবিলের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্পদ মুক্ত করার সমান্তরাল আলোচনার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। দুটি প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য ও সময়সীমাও ভিন্ন।

চূড়ান্ত ও গ্রহণযোগ্য চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত তহবিলটি গঠন বা কার্যকর হবে না। সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত কাঠামো নির্ধারণের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।

সূত্রটি জানায়, চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের পরই তহবিলটি আনুষ্ঠানিকভাবে গঠন করা হবে। এই ৬০ দিনে তহবিলের প্রশাসকরা ইরানি কর্তৃপক্ষ ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সম্ভাব্য প্রকল্পের পরিকল্পনা ও পরিধি নির্ধারণ করবেন।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া সংঘাতের অবসান, ইরানের ওপর মার্কিন অবরোধ শিথিল করা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে উভয় পক্ষ একটি কাঠামোগত সমঝোতায় পৌঁছেছে।









  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]