মো. আসাদুজ্জামান

কাল রাতে তোমাকে স্বপ্নে দেখলাম, সুউচ্চ গ্রীবা, গভীর বিহ্বলতা, অভিমানে ঢোল-সমূদ্রসম থুতনি এবং চিবুকের মাপ আর ঠান্ডা চোখের চাহনি আমার ভিতরের সব রাগ বিরাগ অনুরাগকে বর্ষার প্রথম বৃষ্টিতে ধুয়ে দেওয়ার মতো পরিস্কার করে দিয়ে গেলো, মূহুর্তেই ভুলে গেলাম অভিমানে জমাট বাঁধা তোমার আমার মাঝে দাঁড়ানো সুউচ্চ দেয়ালের কথা । তুমি কিছু বলো নি, তোমাকে কিছু বলতে হয় নি, আমি তো মোমবাতি, নিজে নিজেই জ্বলে গলে গলে পড়লাম, নিজে পুড়লাম, তোমার মুখের আলোকিত হাসির জন্য। মাধবী না লেখা, মাধবীকে না লেখার শক্ত পোক্ত আত্মঅঙ্গীকার মূহুর্তেই উবে গেলো, নিজেকে গ্রিক ও মিশরীয় পুরাণে বর্ণিত কাল্পনিক ফিনিক্স পাখির মতো মনে হলো, মনে হলো আমি ফিনিক্স পাখির মতো অমরত্ব-পুনর্জন্ম পেলাম, নতুন করে জেগে উঠলাম। তুমি সামনে আসলে কতকিছু হওয়ার স্বাধ জাগে, এই ধরো বাঘ কিংবা সিংহ, আরও কতকিছু, আরও অনেক কিছু! কিন্ত তুমি সামনে দাঁড়ালেই আমি হয়ে যাই পোষা বিড়াল, কিংবা চন্চল খরগোশ, কিছুই যখন হতে পারি না, তখন হয়ে উঠতে চাই শ্রীকান্তের দেবদাস কিংবা সমরেশ মজুমদারের অনিমেষ! ইদানিং অবশ্য গ্রীক পুরাণের প্রমিথিউস হওয়ার স্বপ্ন জাগে, তোমাকে সৃষ্ঠি করার জন্য, তোমাকে ঢেলে-ভেঙে সাজানোর জন্য, লালমাই পাহাড়ের মাটি আর তীব্র শীতে গ্রাম দেশের শুকনো পাতার আগুন এনে মাধবীর স্রষ্ঠা হওয়ার জন্য বারেবারে প্রমিথিউস হতে মন চায়।
মাধবী,
ইদানিং কিছু রাজনৈতিক বোদ্ধা সংবিধান এবং জুলাই সনদ নিয়ে বেশ কিছু ভ্রান্ত ব্যাখ্যা দিচ্ছে, দেখছি, শুনছি, ভাবছি আর কষ্ট পাচ্ছি। ভাবছি, এদের রাজনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সংবিধান এবং রাষ্ট্রনীতির সব ধারনা বিভ্রান্তির কুয়াশায় ঢাকা, না কি সচেতনভাবে সরকারকে দোষারোপ করার পুরনো অপ রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চা ? তাঁদের অপব্যাখ্যার অন্যতম বিষয় হলো গনভোট অধ্যদেশ, জুলাই সনদ (বাস্তবায়ন) আদেশ এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে মাঠ গরম করা। এক শ্রেণীর বোদ্ধারা বলছেন, জুলাই সনদ অনুসারে এগুলো করা হয়েছে এবং এগুলো এখনই মানতে হবে।
বিশ্বাস করো, তাদের এই ব্যখ্যা ভ্রান্ত, উদ্দেশ্য প্রনোদিত, ফ্যালাসাস। কারন, জুলাই (বাস্তবায়ন) আদেশ এবং গণভোট অধ্যাদেশ সংবিধান সংশোধনের শামিল যা করার এখতিয়ার সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুসারে রাষ্ট্রপতির নেই, ফলে উক্ত ইন্সট্রুমেন্ট দু’টি সাংবিধানিকভাবে বৈধ আইন নয়।
তাছাড়াও, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন কতৃক প্রকাশিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ এর ৬(ক) ধারায় স্পষ্ট উল্লেখ আছে, ১ থেকে ৪৭ অনুচ্ছেদে বর্ণিত বিষয়গুলো
সংবিধান সংশোধন সাপেক্ষে বাস্তবায়ন কিংবা কার্যকর হবে। উক্ত ৬(ক) ধারার অধীন ১৭ থেকে ২০ অনুচ্ছেদে আইনসভার উচ্চকক্ষের কথা বলা হয়েছে, যা বাস্তবায়নের জন্য জুলাই সনদের ম্যান্ডেট অনুসারে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন। বিএনপি সবকিছু যাচাই বাছাই করে সংবিধান, জুলাই সনদ এবং বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের পথ ধরে এগিয়ে যাবে বলে সকলের সাথে আমি বিশ্বাস করি। অথচ, বিরোধীপক্ষ পুরনো ধাঁচের অপ রাজনৈতিক সংস্কৃতি চর্চা করছে যা মোটেই কাম্য নয়।
মাধবী,
আজ মনটা অন্য একটি কারনে আনন্দিত, উদ্বেলিত, উচ্ছ্বসিত, উদ্ভাসিত! আজ দৈনিক সমকালের সাহিত্যপাতা ‘কালের খেয়া’য় কানাডার একজন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত আইনজীবী জনাব তবারক হোসেন ভূঁইয়া ‘শুধু মাধবীর জন্য’ বইয়ের উপর একটি রিভিউ লিখেছেন, যার শিরোনাম-একাকীত্বের বিপরীতে ‘মাধবী’। রিভিউটি পড়ে মন ছুঁয়ে গেলো। বিশেষ করে, তিনি যখন লিখেছেন, ‘যারা হাজার মানুষের কোলাহলে থেকেও একাকিত্বে ভোগেন– তাদের জন্য এ গ্রন্থ বিশেষ সুখপাঠ্য হতে পারে।’
মাধবী,
এখন ঢের রাত হয়েছে, পাশে ইউটিউবে বাঁজছে, ‘….এখনো কি সন্ধ্যা হলে শরৎ কাহিনী পাশে খোলা পড়ে থাকে..’, ‘…বেদনা মধুর হয়ে যায়, তুমি যদি দাও..’, ‘…সব কথা বলা হলো, বাকি রয়ে গেলো শুধু বলিতে বলিতে..’ ‘…কথা দাও আবার আসবে, এমনি করে ভালোবাসবে…’র মতো কালজয়ী গানগুলো। ইচ্ছে করছে এখন গাড়ী নিয়ে বের হই, কোন টং ঘরের চায়ের দোকানের বাঁশের মাচায় তোমার মুখোমুখি বসে কড়া লিকারের গরুর খাঁটি দুধের চা পান করি, তোমার দু’চোখে চোখ রেখে শুধোয়, বাঁজে কি বাঁজে না, মনোবীণা…! কিন্ত সব ইচ্ছেই পূরণ হয় না, সব ইচ্ছেই পূরণ হবার নয়, এই যে ধরো, আমি আছি, গাড়ী আছে, সংকটময় সময়ে গাড়ীতে অকটেনও আছে, দূরে কোথাও না কোথাও টং ঘরের ঠিকানাও পাবো, কিন্ত তুমি তো নেই মাধবী, কোথাও নেই! তাই এ স্বাধ আমার আজন্মের অপূর্ণতায় ভরে থাকবে, থাক না!
(লেখাটি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এর ফেসবুক প্রোফাইল থেকে নেওয়া)