
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রশ্নগুলোর একটি হলো, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভোট কোথায় যাবে। ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা, শাপলা, লাঙ্গল নাকি স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ঝুড়িতে জমা পড়বে এই বিতর্কে রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক শুধু কিছু আসনে ফলাফল পাল্টে দিতে সক্ষম।
৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাব অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে। বিভিন্ন জরিপের তথ্য অনুযায়ী, দলের সক্রিয় সমর্থক সংখ্যা বর্তমানে ১৫ শতাংশের বেশি নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ‘নো ভোট, নো ভোট’ স্লোগান নির্বাচনে অনুপস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে তৃণমূল পর্যায়ের সমর্থকরা কতটা এটি মানবেন, তা অনিশ্চিত।
আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংকের গুরুত্ব বোঝার জন্য অতীত নির্বাচনের ফলাফল দেখা যায়। ১৯৯১ সালের পঞ্চম নির্বাচন থেকে শুরু করে ২০০৮ সালের নবম নির্বাচন পর্যন্ত দলের ভোটের হার বৃদ্ধি পেয়েছে, সর্বোচ্চ ৪৮.০৪ শতাংশে। তবে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি এবং সমালোচনা হওয়ায় এই ভোট ব্যাংকের প্রভাব কিছুটা কমে এসেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভোট কোথায় যাবে তা মূলত নির্ভর করবে প্রার্থীর আদর্শ ও নীতি, ভোটার-প্রার্থী সম্পর্ক, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর আচরণ এবং কেন্দ্রীয় নির্দেশনার ওপর। বিএনপি সমর্থকদের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে আওয়ামী লীগের ভোট টানার চেষ্টা করছে। তুলনায় জামায়াতও কিছু আসনে সংখ্যালঘু ভোট ও নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়ে সমর্থন আহ্বান করছে। তবে সরাসরি নৌকার সমর্থনে ভোট যাবে কি না তা নিশ্চিত নয়।
জাতীয় পার্টিও আলোচনায় রয়েছে। দলটি দীর্ঘদিন রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগের সাথে যুক্ত থাকায় লাঙ্গল প্রতীকের পক্ষে কিছু ভোটের প্রভাব পড়তে পারে। তবে সরকার গঠনের সম্ভাবনা কম হওয়ায় নৌকা সমর্থকদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ নেই।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, তৃণমূল সমর্থকরা দুই ভাগে বিভক্ত। কেউ বিএনপি, কেউ অন্য প্রার্থীর পক্ষে ভোট দিতে পারেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলছেন, ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে আসার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে ব্যক্তিগতভাবে প্রার্থীর প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ।
বিএনপি নেতা অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজউদ্দিন আহমেদ বিশ্বাস করেন, আওয়ামী লীগের ভোট মূলত ধানের শীষের পক্ষে যাবে। অন্যদিকে জামায়াত নেতা এহসানুল মাহবুব জুবায়ের মনে করছেন, নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের ভোট ৫ শতাংশের বেশি নাও হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করছেন, আওয়ামী লীগের ভোট এখন বিচ্ছিন্ন এবং ভাসমান। কোনো সংঘবদ্ধ ভোট না হলে এটি নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে যেখানে ফলাফল অল্প ব্যবধানে নির্ধারিত হয়। বিএনপি, জামায়াত ও অন্যান্য দল সক্রিয়ভাবে এই ভোট টানার চেষ্টা করছে।