
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, এমন সাতজনকে এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী করেছে বিএনপি। তাদের মধ্যে ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন পাঁচজন। আর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন দুজন।
ছাত্রদলের সাবেক সভাপতিদের মধ্যে যারা এবার বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন তারা হলেন– ফজলুল হক মিলন, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী (এ্যানি), আজিজুল বারী হেলাল, সুলতান সালাউদ্দিন (টুকু) ও রাজীব আহসান। আর ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে সংসদ নির্বাচনে এবার প্রার্থী হয়েছেন আমিরুল ইসলাম খান ও হাবিবুর রশিদ। সাবেক সভাপতি রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছিলেন; তবে শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত মনোনয়ন তিনি পাননি। তার আসনে জোটের একজনকে প্রার্থী করেছে বিএনপি। আরও কয়েকজন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে ছিলেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন পাননি। তবে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের বেশ কয়েকজন সাবেক সহ সভাপতি, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, আহ্বায়ক ও যুগ্ম আহ্বায়ক এবার মনোনয়ন পেয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম যুবদলের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্রদলের সাবেক সহ সভাপতি নুরুল ইসলাম নয়ন। তিনি ভোলার একটি আসন থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন। ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও বর্তমানে কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুল নির্বাচন করছেন ফরিদপুরের একটি আসন থেকে। ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক ও ডাকসুর সাবেক ভিপি আমানউল্লাহ আমান নির্বাচন করছেন কেরানীগঞ্জ থেকে। সাবেক ছাত্রনেতা এস এম জাহাঙ্গীর ঢাকা ১৮ আসন থেকে ধানের শীষে ভোট করছেন।
সাবেক ৫ সভাপতি প্রার্থী
১৯৯২ সালে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ছিলেন ফজলুল হক মিলন। বর্তমানে তিনি গাজীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক। গাজীপুর-৫ (কালীগঞ্জ) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে তিনি নির্বাচন করছেন।
শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ১৯৯৭ সালে ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। এর আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়কও ছিলেন। বিএনপির মনোনয়নে লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসন থেকে নির্বাচন করছেন তিনি। এর আগেও তিনি দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বর্তমানে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন শহীদ উদ্দীন চৌধুরী।
ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আজিজুল বারী হেলাল খুলনা-৪ আসন (রূপসা, তেরখাদা, দিঘলিয়া) থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি ২০০৪ সালে ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। হেলাল বর্তমানে বিএনপির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক।
সুলতান সালাউদ্দিন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন ২০১০ সালে। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ছিলেন তিনি। এবার টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন তিনি। ছাত্রদলের শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালন করার পর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বর্তমানে তিনি বিএনপির প্রচার সম্পাদক।
২০১৪ সালে ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন রাজীব আহসান। তিনি এবার বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ-কাজীরহাট) আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব পালনের পর এখন তিনি জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সাবেক দুই সাধারণ সম্পাদকও প্রার্থী
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে এবার দুজন ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। তারা হলেন– আমিরুল ইসলাম খান ও হাবিবুর রশিদ। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-এনায়েতপুর-চৌহালী) আসনে বিএনপির প্রার্থী আমিরুল ইসলাম খান। তিনি ২০১০ সালে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতিও ছিলেন। তিনি বর্তমানে বিএনপি সহ প্রচার সম্পাদক পদে রয়েছেন।
আর হাবিবুর রশিদ ২০১২ সালে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এবার ঢাকা-৯ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন তিনি। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য।
ছাত্রদলের সাবেক নেতাদের মধ্যে প্রার্থী যারা
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান ১৯৯০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নির্বাচিত হন। ভিপি থাকা অবস্থায় ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এবার তিনি ঢাকা-২ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নরসিংদী-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী খায়রুল কবির খোকন ১৯৯০ সালে আমানউল্লাহ আমানের সঙ্গে ডাকসুর জিএস ছিলেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব।
ছাত্রদলের সাবেক নেতা মোহাম্মদ মাহবুবের রহমান শামীম ১৯৯০ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) এজিএস ছিলেন। এবার তিনি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নোয়াখালী-৬ আসন থেকে নির্বাচন করছেন।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক নেতাদের (সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বাইরে) মধ্যে এবার অনেকেই মনোনয়ন পেয়েছেন। ছাত্রদলের জেলা কমিটিতে ছিলেন এমন কয়েকজনও এবার মনোনয়ন পেয়েছেন।
শরীয়তপুর-৩ আসনে বিএনপি এবার প্রার্থী করেছে মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদকে (অপু)। তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসম্পাদক ছিলেন।
খুলনা-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী রকিবুল ইসলাম (বকুল) ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ছিলেন।
সিলেট-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কুয়েত মৈত্রী হল শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। গুমের শিকার হওয়া বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তিনি।
টাঙ্গাইল-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া এস এম ওবায়দুল হক ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিবের দায়িত্বও পালন করেছেন।
মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী করেছে মো. কামরুজ্জামানকে। তিনি ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। মাদারীপুর-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী করেছে আনিসুর রহমান তালুকদারকে। তিনি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
এর বাইরে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক আরও কয়েকজন নেতা এবার ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন।
ছাত্রদলের সাবেক দুই নেতা মনোনয়ন চেয়েছিলেন কিন্তু জোটের সমীকরণে শেষ পর্যন্ত টিকিট থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তারা দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। দল তাদের বহিষ্কার করেছে। তারা হলেন- ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি হাসান আল মামুন। তিনি ২০০৪ সালে এই পদে ছিলেন। একই কমিটির ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন। এই দুজনের আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে যথাক্রমে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর ও দলটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সম্প্রতি বিএনপিতে যোগ দেওয়া রাশেদ খান। তারা দুজনই দল থেকে বহিষ্কার হয়ে ভোটের মাঠে আছেন।
সাবেক ছাত্রনেতাদের মধ্যে মনোনয়ন চেয়েও যারা পাননি
ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা ভাগ্য বিড়ম্বনার শিকার হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্যতম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম। তিনি ধানমন্ডি আসনে মনোনয়ন চেয়েছিলেন কিন্তু পাননি। অসীম বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক।
আবদুল কাদির ভূইয়া জুয়েল ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি। তিনি নরসিংদী থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলেন, কিন্তু পাননি। জুয়েল বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সম্পাদক।
সাইফ মাহমুদ জুয়েল ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তিনি বানারীপাড়া থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু দল তাকে মনোনয়ন দেয়নি।
বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি। তিনি কোম্পানীগঞ্জ থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। ওই আসনে ব্যবসায়ী ফখরুল ইসলামকে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি।