প্রকাশ: সোমবার, ২৯ আগস্ট, ২০২২, ১২:২২ এএম (ভিজিট : ৫৩৯)

সক্রেটিস, প্লেটো, এরিস্টটল; এইযে তিন নক্ষত্রই তিন জনের শিক্ষক ও ছাত্র ছিলেন। এবং এরিস্টটলের ছাত্র ছিলেন আলেকজান্ডার। তিনি বলেছিলেন তার জন্মের জন্য তিনি তার পিতার কাছে ঋণী এবং তার মেধা ও মনন বিকাসের জন্য তিনি তার শিক্ষকের কাছে ঋণী।দেশব্যাপী শিক্ষকদের অধিকার ও মর্যাদা সমুন্নত রাখা, শিক্ষকদের জীবনমান উন্নত করার ব্যাপারে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, আদর্শ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে সুন্দর সম্পর্ক তৈরি এবং শিক্ষাঙ্গনে সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সচেষ্ট হওয়া এখন সময়ের দাবি।
দৈনিক ভোরের পাতার নিয়মিত আয়োজন ভোরের পাতা সংলাপের ৮১০তম পর্বে এসব কথা বলেন আলোচকরা। ভোরের পাতা সম্পাদক ও প্রকাশক ড. কাজী এরতেজা হাসানের নির্দেশনা ও পরিকল্পনায় অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক, জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ পরিষদের (জানিপপ) চেয়ারম্যান ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. বদরুজ্জামান ভূঁইয়া কাঞ্চন, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক কর্নেল (অব.) কাজী শরীফ উদ্দীন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ভোরের পাতার বিশেষ প্রতিনিধি উৎপল দাস।
অধ্যাপক ড. বদরুজ্জামান ভূঁইয়া কাঞ্চন বলেন, শিক্ষকরা হচ্ছেন আমাদের অভিভাবক। শিক্ষকদের সাথে আমাদের আচরণ কিরকম হবে সেটা আমরা ছোট বেলা থেকেই পরিবারের কাছ থেকে শিক্ষা নেই। আসলে শিক্ষাগুরুর মর্যাদা বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না। শিক্ষকরা হচ্ছেন দেশ গড়ার কারিগর। শিক্ষা মানুষের সর্বাঙ্গীণ বিকাশের উপায়, সুনাগরিক গড়ে তোলার মাধ্যম।শিক্ষা হলো একটি জাতির মেরুদণ্ড। আর শিক্ষক হলেন তার কাণ্ডারি। একজনশিক্ষক তার শিক্ষার্থীর মাঝে যেই বীজ বপন করেন তারমধ্য দিয়ে মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটিয়ে নীতি-নৈতিকতা ও জীবনাদর্শের বলয়ে একজন শিক্ষার্থী তার ব্যক্তিগত ও কর্মময় জীবনকে মুখরিত করে তুলে। যার মাধ্যমে একজন শিক্ষক নীরবে তার আদর্শ দ্বারা জাতির আকাঙ্ক্ষা উপযোগী ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলেন। আমার মনে আছে আমি যখন এসএসসিতে এবং নটরডেম কলেজে যখন ফাস্ট হয়েছিলাম তখন পত্রিকায় আমাকে নিয়ে একটা লেখা গিয়েছিল। সেখানে আমাকে বলা হয়েছিল আমি ভবিষ্যতে হয়ে কি হতে চায় তখন আমি বলেছিলাম আমি বড় হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হতে চাই। একজন শিক্ষক হচ্ছেন সমাজের দর্পণ। কিন্তু সবই এখন পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় সাম্প্রতিক সময়ে আমরা দেখছি, সাতক্ষীরার শ্যামনগরে শিক্ষার্থীকে মৃদু চড় মারার ঘটনায় গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেমকে বেধড়ক মারপিট করে শিক্ষার্থীর অভিভাবক। এছাড়াও কয়েকমাস আগে শিক্ষককে কান ধরে ওঠ বস করানো, সবার সামনে জুতার মালা পরানো, পায়ে হাত দিয়ে মাফ চাইতে বাধ্য করা, জেলে পাঠানো এমনকি পিটিয়ে মেরে ফেলার মত ঘটনা হচ্ছে আমাদের সমাজে। শিক্ষকরা সমাজের বিবেক। শিক্ষকরা হচ্ছেন দেশ গড়ার প্রধান নিয়ামক শক্তি। তাই শিক্ষকদের রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। দেশব্যাপী শিক্ষকদের অধিকার ও মর্যাদা সমুন্নত রাখা, শিক্ষকদের জীবনমান উন্নত করার ব্যাপারে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, আদর্শ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে সুন্দর সম্পর্ক তৈরি এবং শিক্ষাঙ্গনে সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সচেষ্ট হওয়া এখন সময়ের দাবি।